বাংলাদেশ সরকার বাণিজ্যিক বিরোধের দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশের ভিত্তিতে সারা দেশে নতুন বাণিজ্যিক আদালত গঠন করেছে। এই পদক্ষেপটি সর্বোচ্চ আদালতের সঙ্গে পরামর্শের পরে নেওয়া হয়েছে এবং মঙ্গলবার সরকারী নোটিফিকেশন প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে। ফলে দেশের বাণিজ্যিক মামলাগুলোর সমাধান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ আশেকুর রহমান স্বাক্ষরিত নোটিফিকেশন মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়। নোটিফিকেশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাণিজ্যিক আদালত গঠন করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে। এই নথি সরকারী ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট আদালতগুলো দ্রুত কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রথম ধাপ হিসেবে ঢাকা মহানগরে তিনটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরে দুটি বাণিজ্যিক আদালত স্থাপন করা হয়েছে। গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল মহানগরের জন্য প্রত্যেকটিতে একটি করে পৃথক আদালত গঠন করা হয়েছে। মোট ১১টি আদালত মহানগর এলাকায় কার্যকর হওয়ায় বাণিজ্যিক মামলাগুলোর স্থানীয় সমাধান সহজ হবে।
মহানগর আদালতসহ জেলা পর্যায়ের আদালতগুলো মিলিয়ে সারা দেশে মোট ৭৪টি বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই সংখ্যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। আদালতগুলোকে বিভিন্ন থানা ও জেলায় ভাগ করে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি অঞ্চলের ব্যবসায়িক চাহিদা পূরণ হয়।
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-১ এর অধীনে ধানমন্ডি, আদাবর, শাহ আলী, মিরপুর মডেল, পল্লবী, দারুস সালাম, রূপনগর, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, তুরাগ, উত্তরা পূর্ব, দক্ষিণখান, ক্যান্টনমেন্ট, শেরেবাংলা নগর, বিমানবন্দর, ভাষানটেক ও কাফরুল থানা অন্তর্ভুক্ত। এই থানাগুলোকে একত্রে পরিচালনা করে আদালতটি বাণিজ্যিক মামলা দ্রুত শোনার ব্যবস্থা করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একক ফোরাম থেকে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে।
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-২ এর আওতায় মতিঝিল, রমনা, শাহবাগ, গুলশান, বাড্ডা, ভাটারা, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, রামপুরা, ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, বনানী, খিলক্ষেত, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল ও শাহজাহানপুর থানা অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলগুলোতে বাণিজ্যিক বিরোধের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিশেষ আদালতের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। আদালতটি স্থানীয় ব্যবসায়িক সংঘাতের সমাধানে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে।
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-৩ কোতোয়ালি, শ্যামপুর, চকবাজার, বংশাল, কদমতলী, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, সূত্রাপুর, লালবাগ, নিউমার্কেট, কামরাঙ্গীচর, হাজারীবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, সবুজবাগ ও পল্টন থানা অন্তর্ভুক্ত করে। এই থানাগুলোকে একত্রে পরিচালনা করে আদালতটি বাণিজ্যিক মামলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া ঢাকা জেলার (মহানগর এলাকার বাইরে) জন্য আলাদা একটি বাণিজ্যিক আদালত নির্ধারিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-১ এর অধীনে কোতোয়ালি, সদরঘাট, চকবাজার, কর্ণফুলী, পতেঙ্গা, ইপিজেড, বন্দর ও ডবলমুরিং থানা অন্তর্ভুক্ত। এই থানাগুলো চট্টগ্রাম শহরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। আদালতটি এই এলাকায় ব্যবসায়িক বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-২ চান্দগাঁও, বাকলিয়া, পাঁচলাইশ, খুলশী, পাহাড়তলী, বায়েজিদ বোস্তামী, হালিশহর ও আকবর শাহ থানা অন্তর্ভুক্ত করে। এই থানাগুলোকে একত্রে পরিচালনা করে আদালতটি বাণিজ্যিক মামলায় সমন্বিত রায় প্রদান করবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলার (মহানগর এলাকার বাইরে) জন্য পৃথক একটি বাণিজ্যিক আদালত গঠন করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক আদালত গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার বাণিজ্যিক মামলায় দীর্ঘমেয়াদী ব্যাকলগ কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে। নতুন আদালতগুলোকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করার জন্য সরকারী তদারকি ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। ভবিষ্যতে আদালতগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সম্পদ সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।



