অন্তবর্তীকালীন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেওয়া নীতিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে। ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেতে থাকা সময়ে, সরকারকে কৌশলগত, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তবে বাস্তবে তা অল্পপরিকল্পিত ও বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
দুর্নীতি এমন এক রোগ যা অল্পপরিমাণে নির্বাচিত ঔষধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না; এটি দীর্ঘমেয়াদী, সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। পূর্ববর্তী সরকারগুলো উচ্চস্বরে দুর্নীতির বিরোধিতা করে কথা বললেও, বাস্তবায়নে তেমন কোনো দৃঢ়তা দেখা যায়নি। ফলস্বরূপ, ২০০৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত রাষ্ট্রের কাঠামো ধীরে ধীরে ক্লেপটোক্রেসিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাঠামোগত সংস্কারের দায়িত্ব অর্পিত হওয়ায়, জনগণ থেকে উচ্চ প্রত্যাশা গড়ে ওঠে। বিশেষ করে, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনার জন্য সরকারকে সমর্থন করা হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যৎ সরকারগুলো সেগুলোকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে পারে। তবে বাস্তবে, সরকারটি প্রত্যাশার বিপরীত দিকেই কাজ করেছে।
গৃহীত নীতিগুলো প্রায়ই অস্থায়ী ও বিচ্ছিন্ন রূপে প্রকাশ পায়, যার ফলে মূল লক্ষ্য—দুর্নীতির মূল কাঠামো ভাঙা—সফল হয়নি। এই ধরনের অপ্রস্তুত পদক্ষেপগুলো আইনগত ও কার্যকরী ঝুঁকি তৈরি করে, যা রাষ্ট্রের সংস্কারমূলক ম্যান্ডেটের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।
অন্তবর্তীকালীন সরকার অভ্যন্তরীণ বিরোধী গোষ্ঠী ও নিজের ক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত শক্তিগুলোর প্রভাবের শিকার হয়ে, প্রয়োজনীয় সংস্কারকে অগ্রাহ্য করে। ফলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সুযোগগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং সংস্কারের গতি ধীর হয়ে যায়।
প্রতিটি নতুন আইন বা আদেশে এমন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে যা মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে, প্রায়শই তা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করে। উদাহরণস্বরূপ, গৃহীত বেশিরভাগ আদেশে এমন ধারা রয়েছে যা দুর্নীতির মূল সমস্যার সমাধানকে কঠিন করে তোলে।
পুলিশ কমিশন আদেশের ক্ষেত্রে, এটি মূলত পুলিশ সংস্কারের জন্য একটি মুখোশ হিসেবে কাজ করে। বাস্তবে, এই আদেশটি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল ব্যুরোকার ও পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রের রূপ নেয়, যারা প্রয়োজনীয় সংস্কারকে বাধা দিতে পারে।
অন্যদিকে, জাতীয় মানবাধিকার আদেশের কাঠামোতে একটি বিশেষ ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যুরোকারদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে। এই ধারা স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশনের স্বপ্নকে ক্ষুণ্ন করে, এবং আদেশের মূল উদ্দেশ্যকে দুর্বল করে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কেবল অস্থায়ী পদক্ষেপ নয়, বরং সমন্বিত কৌশল, স্বচ্ছ আইন ও স্বাধীন সংস্থার প্রয়োজন। অন্তবর্তীকালীন সরকারের বর্তমান নীতিগুলো এই দিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে আরও সুসংহত ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়াবে।



