বুধবার সকাল প্রায় ৯টায় যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের বালুন্ডা গ্রামে মাটি কাটার কাজের সময় একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থলে দুজন শ্রমিক আঘাত পেয়ে জরুরি সেবার আওতায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বোমা বিস্ফোরণটি বালুন্ডা গ্রামের কাচারিপাড়া এলাকায় অবস্থিত জাকির হোসেন ঢালির বাড়িতে বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের জন্য গর্ত খননের সময় ঘটেছে। শ্রমিকরা যখন গর্তে কাজ করছিলেন, তখন অপ্রত্যাশিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটায় দুইজনই শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আহত শ্রমিকদের মধ্যে ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী জাকির সরদার, যিনি আব্দুল বারিক সরদারের পুত্র, এবং ৪২ বছর বয়সী আব্দুল কাদের, যিনি নুরজাক সরদারের পুত্র। প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, তবে তাদের অবস্থার তীব্রতা বিবেচনা করে পরে যশোর সদর হাসপাতালের বিশেষ বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
বোমা বিস্ফোরণের খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল হাই现场ে উপস্থিত হন এবং现场ের প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরণের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে। পরিদর্শক হাই জানান, “বোমা কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তদন্তের মাধ্যমে তা প্রকাশ পাবে।”
যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারন সার্কেল) আরিফ হোসেনও ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, “বোমা কীভাবে এবং কারা বসিয়ে রেখেছিল তা নির্ণয়ের জন্য তদন্ত কাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণের জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। কিছু লোকের মতে, এই ধরনের বোমা সংগ্রহের পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারে এবং তারা প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া বোমার ধরণ ও অবশিষ্টাংশের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ দল বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, বোমার গঠন ও ব্যবহৃত উপাদান থেকে এর উৎপত্তি ও সম্ভাব্য প্রস্তুতকারক চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
বিবিধ সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বোমা সম্ভবত পূর্বে প্রস্তুত করে নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা হয়েছিল, তবে তা কখনো সক্রিয় করা হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন বা দায়ী ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মামলাটি আদালতে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিনিয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করা হবে।



