কুরিগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান তার রাজনৈতিক অবস্থান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্ত ও স্থানীয় নেতারা তার বক্তব্যের অপেক্ষা করছিলেন।
শফিকুর জানান, সম্প্রতি একটি গোষ্ঠী তার এক্স-আইডি হ্যাক করে অনলাইন কার্যক্রম চালু করেছিল এবং তৎক্ষণাৎ সাইবার দলকে লক্ষ্যবস্তু করে। তিনি উল্লেখ করেন, তার সাইবার টিম দ্রুত হ্যাকিং দলকে চিহ্নিত করে এবং তাদের কার্যক্রম থামিয়ে দেয়।
হ্যাকিং ঘটনার পর পুলিশ প্রধান অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে বলে শফিকুর প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সত্যের কোনো ছায়া মেঘে ঢাকা যায় না এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা অপরিহার্য।
জনসভায় শফিকুর স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি পার্টির জয় তার জন্য লক্ষ্য নয়; তিনি দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের সমষ্টিগত সাফল্যকে অগ্রাধিকার দেন। তিনি বিভাজনমূলক রাজনীতি ও দলীয় রাষ্ট্র গড়ার বিরোধিতা করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর প্রভাব কমিয়ে সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তিস্তা পাড়ার মানুষের মধ্যে তিনি গণজোয়ার দেখছেন, যা তার দৃষ্টিতে সমন্বিত উন্নয়নের সূচক।
শফিকুরের ভাষণে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের স্মরণও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের সাহসিকতা তুলে ধরে, যিনি নিজের বুকের ওপর গুলি করে অধিকার দাবি করেছিলেন।
শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও হাদিসহ মোট ১৪০০ শহীদকে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে শফিকুর বলেন, তাদের রক্তে নদীগুলো লাল হয়েছে এবং তা কখনো ম্লান হবে না। তিনি শহীদদের ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে, প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কুরিগ্রামকে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে শফিকুর বলেন, এখান থেকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হবে। তিনি দাবি করেন, কোনো অতিরিক্ত দাবি না করে, বঞ্চিত জনগণের জন্য সরাসরি উন্নয়ন কাজ করা তার ধর্মীয় দায়িত্ব।
শফিকুরের পরিকল্পনায় কুরিগ্রামকে “কৃষি শিল্পের রাজধানী” রূপে গড়ে তোলা অন্তর্ভুক্ত। তিনি কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রাখছেন এবং স্থানীয় মানুষকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অঞ্চলের প্রধান তিনটি বড় নদীর অবনতি ও বাজেটের চুরির অভিযোগ শফিকুরের আরেকটি বিষয়। তিনি বলেন, এই নদীগুলোকে মরুভূমিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বাজেট থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে বিদেশে পাচার হয়েছে। তিনি ক্ষমতা পেলে এই অর্থ পুনরুদ্ধার করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিপক্ষের কিছু নেতা শফিকুরের মন্তব্যকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন এবং তার উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে সময়ের সাথে যাচাই করা হবে বলে মন্তব্য করেন। তবে তারা কুরিগ্রামের অবকাঠামো সমস্যার সমাধানে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের আহ্বানও জানিয়েছেন।
শফিকুরের এই জনসভা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তার প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি পার্টির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে নতুন দিক যোগ করেছে। পরবর্তী সপ্তাহে কুরিগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী জেলায় নির্বাচনী ক্যাম্পেইন তীব্র হবে, এবং শফিকুরের ঘোষিত নীতি ও প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



