জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী মঙ্গলবার রাত ৩ ফেব্রুয়ারি ধুবনী কঞ্চিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তৃতা দেন। তিনি উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকদের লক্ষ্য করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পাটোয়ারী জোর দিয়ে বললেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই কিছু না কিছু ত্রুটি আছে, তবে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা কোনো রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হতে পারে না। তিনি যুক্তি দেন, গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা ও মতবৈচিত্র্যই দেশের উন্নয়নের ভিত্তি।
এরপর তিনি বর্তমান সরকারের কর্মক্ষমতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। শামীম হায়দার পাটোয়ারী উল্লেখ করেন, সরকার দেশের পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং বিরোধী দলের ভয়ে ন্যায়বিচার প্রয়োগে অক্ষম। তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করেছে, তাদের বিচার দেশের মাটিতে হবে।
পাটোয়ারী আরও উল্লেখ করেন, কিছু শক্তি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছে, যা মা‑বোনদের অসম্মান এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, জাতীয় পাটি (জাতীয় পার্টি)ই একমাত্র সংস্থা যা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম।
সুন্দরগঞ্জের লাঙলে ভোটের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ভোটের মাধ্যমে সুন্দরগঞ্জের মানুষকে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রদান করতে পারবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় পার্টিকে সমর্থন করা জরুরি।
পাটোয়ারী দেশের বর্তমান অবস্থা ক্লান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে বলে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেড় বছরের মধ্যে বর্তমান সরকার দেশের পরিস্থিতি নরকে রূপান্তরিত করেছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিরোধী দলের মোকাবিলা করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, লাঙলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হলে সুন্দরগঞ্জের ভাগ্য পরিবর্তন হবে এবং স্থানীয় মানুষ শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবে। এভাবে তিনি ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সেই সভায় জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাপা মহাসচিবও বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি জাতীয় পার্টি নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে ধুবনী কঞ্চিবাড়িকে একটি আলাদা উপজেলা হিসেবে গঠন করা হবে, যা তার দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত কাজের সমাধান হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি মো. ওয়াহিদুজ্জামান সরকার বাদশা, যিনি দলের নীতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে কথা বলেন এবং ভোটের গুরুত্ব পুনরায় জোর দেন।
উপজেলা পর্যায়ের জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান মন্ডলও উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্থানীয় সমর্থকদের উৎসাহিত করে দলের নির্বাচনী কর্মসূচি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এই নির্বাচনী সভা জাতীয় পার্টির নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, পার্টি কর্মী ও সমর্থকরা একত্রিত হয়ে বক্তৃতা শোনেন এবং ভোটের জন্য প্রস্তুতি নেন।
সভা শেষের দিকে উপস্থিতদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়, কারণ দেশীয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে এবং আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি তীব্রতর হচ্ছে।
পাটোয়ারী সরকারকে সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী দলের মুখোমুখি না হওয়ায় সরকার জনসাধারণের আস্থা হারাচ্ছে এবং অব্যাহত দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা সামাজিক অশান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি দ্রুত ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ প্রশাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দাবি করেন।
জাতীয় পার্টি সভায় তার নীতি ও কর্মসূচি প্রকাশ করে, যার মধ্যে স্থানীয় শাসন শক্তিশালী করা, সুন্দরগঞ্জে অবকাঠামো উন্নয়ন, এবং আইন প্রয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দূর করা অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, এই ধরনের সমাবেশগুলো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করছে এবং বিরোধী দলগুলো নির্বাচনের আগে তাদের ভিত্তি দৃঢ় করার চেষ্টা করছে। জাতীয় পার্টির জাতীয় পরিচয় ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি কিছু ভোটারকে আকৃষ্ট করতে পারে।



