কানাডার টরন্টোর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনে লিবারেল পার্টি অব কানাডা ডলি বেগমকে ফেডারেল নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন করেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে পার্টি এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, যেখানে বেগমকে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যাবে। এই পদক্ষেপের পেছনে বেগমের সাত বছরের প্রাদেশিক এমপি কর্মজীবন এবং তার জাতীয় স্তরে অবদান রাখার ইচ্ছা উল্লেখ করা হয়েছে।
স্কারবরো সাউথওয়েস্ট ঐতিহাসিকভাবে লিবারেল পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, তবে ২০২২ সালে প্রাক্তন মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের পদত্যাগের পর এই আসনটি শূন্য হয়ে গিয়েছিল। বেগমের মনোনয়ন পার্টির জন্য এই শূন্যস্থান পুনরায় দখল করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে টরন্টোর এই গুরুত্বপূর্ণ জেলায় লিবারেল শক্তি পুনরুদ্ধার করা যায়।
লিবারেল পার্টি অব কানাডা পার্টি প্রেসিডেন্ট সাচিত মেহরা এই ঘোষণার পরে বলেন, “ডলি বেগমের জনসেবার রেকর্ড অতুলনীয়। তিনি কেবল দক্ষ রাজনীতিক নন, বরং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক।” মেহরা আরও যোগ করেন, “প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নতুন টিমে ডলি বেগমের মতো নেতৃত্বের সংযুক্তি কানাডাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”
ডলি বেগম ২০১৮ সাল থেকে স্কারবরো সাউথওয়েস্টের প্রাদেশিক এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনবার বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে তুলেছেন। তিনি কুইন্স পার্কে শুধু আইনপ্রণেতা নয়, অন্টারিও এনডিপির ডেপুটি লিডার এবং বিরোধী দলের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবেও স্বীকৃত। তার কর্মজীবনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সাশ্রয়ী আবাসন বিষয়ক নীতি প্রণয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বেগমের নিজের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি গত সাত বছর ধরে স্কারবরো সাউথ-ওয়েস্টের মানুষের জন্য লড়াই করেছি। তবে দেশের এই ক্রান্তিকালে আমার মনে হয়েছে, আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বের অধীনে আমি এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে প্রস্তুত।” তার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং কানাডাকে ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা অন্তর্ভুক্ত।
ডলি বেগমের পরিবারিক পটভূমি বাংলাদেশে, মৌলভীবাজারের মনু নদের পাড়ায়। তিনি মাত্র বারো বছর বয়সে বাবা রাজা মিয়া ও মা জবা বেগমের সঙ্গে কানাডায় পাড়ি জমালেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL) থেকে অতিরিক্ত শিক্ষা গ্রহণ করেন। এই আন্তর্জাতিক শিক্ষার অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়ক হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডলি বেগমের মনোনয়ন কানাডার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে ফেডারেল সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দিচ্ছে। এই ঘটনা দেশের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে প্রতিনিধিত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, রিকনসিলিয়ান পার্টি ও কনজারভেটিভ পার্টি উভয়ই স্কারবরো সাউথওয়েস্টে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপস্থাপন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তারা বেগমের স্থানীয় কাজের প্রশংসা স্বীকার করলেও, জাতীয় স্তরে তার অভিজ্ঞতা সীমিত বলে দাবি করে, এবং ফেডারেল নীতি গঠনে আরও বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে।
ফেডারেল উপ-নির্বাচন ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হবে, এবং স্কারবরো সাউথওয়েস্টের ভোটাররা আগামী কয়েক মাসে প্রার্থীদের নীতি প্রস্তাবনা ও নির্বাচনী প্রচারাভিযান সম্পর্কে আরও তথ্য পাবেন। বেগমের ক্যাম্পেইন দল ইতিমধ্যে সাশ্রয়ী আবাসন, পরিবহন উন্নয়ন এবং স্থানীয় ব্যবসার সমর্থনে কেন্দ্রিক নীতি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ডলি বেগমের প্রাদেশিক অভিজ্ঞতা এবং তার সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে ফেডারেল স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় সুবিধা দিতে পারে। তবে ভোটারদের প্রত্যাশা উচ্চ, এবং তিনি কীভাবে জাতীয় নীতি ও স্থানীয় চাহিদার সমন্বয় করবেন, তা নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণের মূল বিষয় হবে।
সারসংক্ষেপে, ডলি বেগমের লিবারেল পার্টি অব কানাডার প্রার্থী মনোনয়ন স্কারবরো সাউথওয়েস্টে রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মোড় দেয়। তার অভিজ্ঞতা, নীতি অগ্রাধিকার এবং জাতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় কীভাবে কাজ করবে, তা আগামী নির্বাচনে স্পষ্ট হবে।



