৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার ভোরবেলায় নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রবেশদ্বারের ঠিক সামনে একটি পিকআপ গাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে নামিয়ে ছেড়ে চলে যায় চালক ও তার সহকারী। গাড়ি থামিয়ে তৎক্ষণাৎ কর্মীরা তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রেহনুমা মুনমুন দ্রুত পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
ডাক্তার রেহনুমা মুনমুন জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায় ব্যক্তি অজানা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রক্তপাতের শিকার হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর মুহূর্তে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। রোগীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করা হয় এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সদর মডেল থানা ওসির নায়ামুল হক জানান, মৃত ব্যক্তির নাম জুনায়েদ সাকি, বয়স ৩৭ বছর, পিরোজপুরের বাসিন্দা। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তার পরিচয় যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে জানায়।
জুনায়েদের স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। ওসি উল্লেখ করেন, মৃতের পরিচয় ও মৃতদেহের প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং তদন্ত দলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদ পরিবারকে জানিয়ে বলেন, জুনায়েদ ঢাকা থেকে ট্রেনে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে নামার পর মহাদেবপুরে অবস্থিত তার স্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছানোর পথে ছিলেন। সান্তাহার থেকে নওগাঁ পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় যদি কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা থেকেই মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তবে এখনো গাড়ি চালকের নাম, গাড়ির নম্বর বা দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাড়ি চালক ও সহকারী ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পালিয়ে গেছেন, ফলে তাদের সনাক্তকরণে অতিরিক্ত সময় লাগবে।
পুলিশের মতে, মৃতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ফরেনসিক পরীক্ষা, গাড়ি চালকের বিবৃতি সংগ্রহ এবং গাড়ির রেকর্ড চেক করার জন্য বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। দলটি রাস্তায় ক্যামেরা ফুটেজ, গাড়ির টেকনিক্যাল ডেটা এবং গাড়ি চালকের পূর্ববর্তী রেকর্ড বিশ্লেষণ করবে।
ফরেনসিক ফলাফল ও গাড়ি চালকের বিবৃতি পাওয়া মাত্রই মামলাটি সংশ্লিষ্ট জেলায় আদালতে হস্তান্তর করা হবে। আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করে অপরাধের দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগকে ঘটনাটির তথ্য জানিয়ে যথাযথ শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পদমর্যাদা ও বেতন সংক্রান্ত বিষয়ও পর্যালোচনা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ না করলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব এবং গাড়ি চালকের দায়িত্বশীল আচরণকে পুনরায় জোর দিয়ে দাবি করছেন। স্থানীয় প্রশাসনও এই ঘটনার পর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
পুলিশের তদন্ত চলাকালে অতিরিক্ত সাক্ষী ও ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। যদি গাড়ি চালকের অপরাধমূলক দায় প্রমাণিত হয়, তবে তিনি সড়ক নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি পাবেন। একই সঙ্গে, মৃতের পরিবারকে আইনি সহায়তা ও মানসিক সমর্থন প্রদান করা হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা, জরুরি সেবা প্রদান প্রক্রিয়া এবং সরকারি কর্মচারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধের জন্য ট্রাফিক নিয়মের কঠোর প্রয়োগ, গাড়ি চালকের প্রশিক্ষণ এবং জরুরি সেবার দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।



