বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক ময়দানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে যারা নাগরিককে সম্মান করে না এবং ১২ তারিখের পর নাগরিককে ‘নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবে’ এমন পরিকল্পনা করে, তাদেরকে শাস্তি দেওয়া দরকার।
তারেক রহমানের ভাষণে অতীতের আওয়ামী লীগ শাসনকালের কথা স্মরণ করা হয় এবং ৫ আগস্টের পর স্বৈরাচারী শাসন শেষ হওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়। তবে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী রীতি এখনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি এবং একটি গোপন পরিচয়যুক্ত দল এখনও সক্রিয় রয়েছে।
বক্তা জামায়াত-এ-ইসলামিকে ‘গুপ্ত সংগঠন’ বলে অভিহিত করে ভোটারদের সতর্কতা জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই গোপন সংগঠনটি দেশের মানুষের মধ্যে গোপন পরিচয়ে কাজ করছে এবং তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।
তারেক রহমানের মতে, বর্তমান সময়ে একটি নতুন জালেমের উদ্ভব ঘটেছে, যাকে তিনি ‘গুপ্ত পরিচয়ের জালেম’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই জালেমের কর্মকাণ্ড সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে নারীর অবদানের প্রতি অবহেলা করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই দিন আগে কোনো নেতা প্রকাশ্যে নারীদের প্রতি কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা দেশের মা-বোনদের প্রতি অবমাননা হিসেবে গণ্য হয়। এই ধরনের ভাষা ব্যবহারকারী কোনো দল বা ব্যক্তি দেশের অগ্রগতির জন্য উপযুক্ত নয়, তা তিনি স্পষ্টভাবে বললেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যে নারী সম্মান ও মর্যাদার প্রতি অবহেলার ফলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে, এই ধারণা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। তিনি দাবি করেন, যারা নারীর কষ্টকে উপেক্ষা করে, তাদের থেকে কোনো সম্মানজনক আচরণ বা অগ্রগতির আশা করা যায় না।
বক্তা মুসলমানদের মহানবীর (সা.) স্ত্রী বিবি খাদিজাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, তিনি একজন কর্মজীবী নারী এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এই উদাহরণটি নারীর সামাজিক অবস্থান ও অবদানের গুরুত্বকে জোরদার করে।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের এই রেটোরিক্স নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গৃহীত হতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে নির্দিষ্ট দলকে গোপন সংগঠন হিসেবে চিত্রিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়।
বিএনপি এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে সতর্কতা সৃষ্টি করে এবং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিতে চায়। ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফলে এই রকম রেটোরিক্সের প্রভাব কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।



