26 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমাহদী আমিন: নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারচুপির ইঙ্গিত শোনা যাচ্ছে

মাহদী আমিন: নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারচুপির ইঙ্গিত শোনা যাচ্ছে

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিভিন্ন ধরনের কারচুপির সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই ধরনের সন্দেহগুলো বাড়ছে।

বৈঠকটি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করা সাংবাদিকদের সমিতি রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) এর সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে বিএনপি একটি দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য একটি এমন শাসনব্যবস্থা গঠন করা যেখানে জনগণই সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস হবে। তিনি এই সংগ্রামের ইতিহাসকে উল্লেখ করে বর্তমান নির্বাচনের গুরুত্বকে তুলে ধরেন।

তিনি অতীতের তিনটি নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচন যেখানে ভোটের কোনো সুযোগই না দেওয়া হয়েছিল, ২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের ডামি ভোট—এই তিনটি ঘটনাকে তিনি ভোটারদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।

মাহদী আমিনের মতে, যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, মুক্ত এবং গ্রহণযোগ্য হয়, তবে বিএনপির জয় নিশ্চিত হবে এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পরিবর্তন হবে। তিনি এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সকল মিডিয়া সংস্থাকে আহ্বান জানান, যেন তারা নিরপেক্ষভাবে সত্যকে উপস্থাপন করে।

বিএনপির প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো প্রমাণ না থাকলেও সন্দেহের পরিবেশই ভোটারদের আস্থা হ্রাসের কারণ হতে পারে। তাই তারা সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলছেন।

আরএফইডের সদস্যরা বৈঠকে উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হল তথ্যের সত্যতা যাচাই করে জনগণকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করা। তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে এবং পরে উভয় সময়েই মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিএনপির মুখপাত্রের মন্তব্যের পর, নির্বাচনী কমিশনের একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন, যিনি সংক্ষেপে বলেছিলেন যে কমিশন নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের উল্লেখ না করেও প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই বৈঠকের পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে যদি ভোটের দিন পর্যন্ত কোনো বড় অনিয়ম না ঘটে, তবে বিএনপি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন জিততে পারে। তবে তারা সতর্ক করেন, নির্বাচনের ফলাফল শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগে কিছু মুখপাত্রও একই সময়ে মিডিয়ার কাছে জানিয়েছেন, তারা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সরকারের সবধরনের সহায়তা দেবে। তারা বলছেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সকল পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন।

বৈঠকের শেষে, মাহদী আমিন আবারও মিডিয়াকে আহ্বান জানান, যেন তারা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই সত্যকে তুলে ধরতে পারে এবং ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার মূল চাবিকাঠি।

সংক্ষেপে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মিডিয়া সংস্থা স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের আস্থা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে, তাই সকল অংশগ্রহণকারীকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments