বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, বিকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নারগুন ইউনিয়নের কিসমত দৌলতপুর গ্রামে নির্বাচনি সভা পরিচালনা করেন। সভায় তিনি মাতৃস্নেহের গুরুত্ব ও নারীর মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে ধর্মীয় শিক্ষাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখেন।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, আল্লাহ্ তায়ালা বলেছেন, “মায়ের পায়ের তলে স্বর্গ,” এবং প্রশ্ন তোলেন যে যদি কেউ মা‑বোনদের অবমাননা করে, কটু কথা বলে, তবে কি তারা কখনো স্বর্গে প্রবেশ করতে পারবে। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভোটের মাধ্যমে স্বর্গের প্রতিশ্রুতি দেওয়া কোনো রাজনৈতিক দলকে সমালোচনা করেন।
বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে বিশেষভাবে জামায়াত-এ-ইসলামি দলকে লক্ষ্য করে বলা হয় যে, তাদের কিছু নেতা ও কর্মী নারীদের কাছে ভোটের মাধ্যমে স্বর্গের গ্যারান্টি দিয়ে ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করছেন, যা তিনি “ভুল বোঝাবুঝি” বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মের নামে মানুষকে প্রভাবিত করে ভোটের লোভ বাড়ানো নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
মির্জা ফখরুল আরও জানান, জামায়াত-এ-ইসলামি দলকে সত্যের ভিত্তিতে কথা বলতে হবে এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি দলকে অনুরোধ করেন, “মিথ্যা কথা বলবেন না, গিবত গাইবেন না,” এবং অন্যের সমালোচনা করার সময় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেন।
সম্প্রতি টেলিভিশন ও মোবাইল মাধ্যমে প্রচারিত একটি “এক্স” পোস্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি আমিরের একটি পোস্টে মহিলাদের প্রতি অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপস্থিতদের জিজ্ঞাসা করেন, “আপনারা কি এই পোস্টটি দেখেছেন?” এবং এ ধরনের প্রকাশনা রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার বিপরীত বলে উল্লেখ করেন।
বিএনপি দলের কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দলটি সবসময় কাজের মাধ্যমে বিশ্বাস গড়ে তুলতে চায়, সমালোচনার মাধ্যমে নয়। তিনি সব রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে আহ্বান করেন, “রাজনীতি করতে পারেন, তবে দয়া করে সত্যিকারের তথ্য দিয়ে কাজ করুন।” এভাবে তিনি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পক্ষে সুর তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে নারী সম্মান রক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক সততার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে নারীর মর্যাদা রক্ষা করতে এবং ধর্মীয় শব্দের অপব্যবহার না করতে স্মরণ করিয়ে দেন। এ ধরনের আহ্বান নির্বাচনের পূর্বে সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই সভা বিএনপির আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। মির্জা ফখরুলের বক্তৃতা জামায়াত-এ-ইসলামি দলের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যা ভোটারদের মধ্যে পারস্পরিক ধারণা গঠনে প্রভাব ফেলবে। উভয় দলই নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থান নিতে চায়, ফলে এই ধরনের প্রকাশনা পার্টি সম্পর্কের তীব্রতা বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, মির্জা ফখরুলের এই ধরনের সরাসরি সমালোচনা জামায়াত-এ-ইসলামি দলের ভোটার ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, বিশেষ করে নারীদের ভোটের প্রবণতা পরিবর্তন করতে পারে। তবে উভয় পক্ষই নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাবে এবং ভোটারদের কাছে নিজেদের নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরবে।
সভা শেষের দিকে উপস্থিতদের একত্রে ভোটের গুরুত্ব ও নৈতিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। মির্জা ফখরুল সকলকে আহ্বান করেন, “মা‑বোনদের সম্মান করুন, সত্যের পথে চলুন, এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশ নিন।” এভাবে তিনি রাজনৈতিক আলোচনাকে সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করে শেষ করেন।



