উন্নি মুখুন্দন নায়কত্বে নির্মিত নরেন্দ্র মোদি জীবনী চলচ্চিত্র “মা ভাঁডে”র হায়দ্রাবাদ শুটিং প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে। চলচ্চিত্রের দলটি হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম শুটিংয়ের শেষ মুহূর্তে দৃশ্যপটের কিছু পেছনের দৃশ্য (BTS) প্রকাশ করে এই তথ্য জানায়। চলচ্চিত্রটি নরেন্দ্র মোদির জীবনের মূল দিকগুলোকে তুলে ধরতে চায়, যা মূল্যবোধ, উদ্দেশ্য এবং দৃঢ়সংকল্পের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
শুটিংয়ের সূচনা একটি ঐতিহ্যবাহী পূজার মাধ্যমে করা হয়, যা স্থানীয় কর্মী ও কাস্টের মধ্যে শুভ সূচনা হিসেবে স্বীকৃত হয়। পূজার পরপরই প্রধান দৃশ্যগুলো ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যেখানে নায়কত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো পুনরায় তৈরি করা হয়েছে। এই শুটিং পর্যায়ে হায়দ্রাবাদের বিভিন্ন লোকেশন ব্যবহার করে চলচ্চিত্রের মূল কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
শুটিং চলাকালীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য সম্পন্ন করা হয়, যার মধ্যে নরেন্দ্র মোদির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। দলটি দ্রুতগতিতে কাজ করে, যাতে সময়সূচি অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে পারে। শুটিং শেষের সঙ্গে সঙ্গে দলটি পরবর্তী শুটিংয়ের প্রস্তুতি শুরু করে।
প্রকাশিত BTS ছবিগুলোতে পরিচালক ক্রান্তি কুমার সি.এইচ. এবং প্রধান অভিনেতা উন্নি মুখুন্দনের সঙ্গে কাজের দৃশ্য দেখা যায়। ছবিগুলোতে সেটের পরিবেশ, কাস্টের প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ব্যবহার স্পষ্টভাবে ফুটে আছে। এই দৃশ্যগুলো চলচ্চিত্রের উচ্চমানের উৎপাদন প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।
হায়দ্রাবাদ শুটিং শেষ হওয়ার পর দলটি পরবর্তী শুটিংয়ের স্থান হিসেবে কাশ্মীরকে চিহ্নিত করেছে। কাশ্মীরের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও সাংস্কৃতিক পটভূমি চলচ্চিত্রের বর্ণনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুটিং দলটি কাশ্মীরের বিভিন্ন লোকেশন পরিদর্শন করে প্রস্তুতি গ্রহণের কাজ শুরু করেছে।
“মা ভাঁডে” চলচ্চিত্রটি নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসে, সরকারী ঘোষণার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে উপস্থাপিত হয়। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট ও দৃষ্টিকোণ প্রকাশিত হয়, যা নরেন্দ্র মোদির জীবনের বিভিন্ন পর্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে। চলচ্চিত্রটি বৃহৎ পরিসরে তৈরি হওয়ার কথা, যাতে আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন মান বজায় থাকে।
প্রযোজনা সংস্থা ভীর রেড্ডি এম. এই প্রকল্পের মূল অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে। স্ক্রিপ্ট রচনা ও পরিচালনা কাজ ক্রান্তি কুমার সি.এইচ. একাই পরিচালনা করছেন, যিনি চলচ্চিত্রের বর্ণনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিশদ গবেষণা করেছেন। চলচ্চিত্রের মূল লক্ষ্য হল নরেন্দ্র মোদির জীবনের সত্যিকারের গল্পকে বৃহৎ পর্দায় উপস্থাপন করা।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে চলচ্চিত্রের দলটি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত। অ্যাকশন ডিরেক্টর কিং সলোমন, প্রোডাকশন ডিজাইনার সাবু সিরিল, এডিটর শ্রীকার প্রসাদ, চিত্রগ্রাহক কে.কে. সেন্থিল কুমার এবং সঙ্গীত রচয়িতা রবি বাসরুর প্রত্যেকেরই নিজস্ব স্বাক্ষর রয়েছে। এই দলটি পূর্বে বহু উচ্চপ্রোফাইল প্রকল্পে কাজ করেছে, যা চলচ্চিত্রের গুণগত মানকে সমর্থন করে।
দলটির পূর্বের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে “বাহুবলি” এবং “সালার” অন্তর্ভুক্ত, যা ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ও স্কেলিংয়ে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। রবি বাসরুর সঙ্গীত, যা “কেজিএফ” ছবিতে শোনার পর দর্শকদের মুগ্ধতা অর্জন করেছে, এই চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা “মা ভাঁডে”কে বৃহৎ পর্দায় উপস্থাপনের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি সরবরাহ করবে।
প্রযোজক ও প্রযুক্তিগত দলের সমন্বয়ে তৈরি এই প্রকল্পটি নরেন্দ্র মোদির জীবনের গল্পকে বিশাল স্ক্রিনে উপস্থাপন করার লক্ষ্য রাখে। চলচ্চিত্রের স্কেল, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীল দিকগুলোকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত কাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দর্শকরা যখন বড় পর্দায় নরেন্দ্র মোদির যাত্রা দেখতে পাবেন, তখন তা একটি বিশাল সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা হিসেবে উপস্থাপিত হবে।
হায়দ্রাবাদ শুটিংয়ের সমাপ্তি এবং কাশ্মীরের শুটিংয়ের প্রস্তুতি চলচ্চিত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চলচ্চিত্রের দলটি এখন পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হয়ে, নরেন্দ্র মোদির জীবনের আরও গভীর দিকগুলোকে ক্যামেরায় ধরতে প্রস্তুত। শীঘ্রই দর্শকদের সামনে এই বৃহৎ বায়োপিক উপস্থাপনের অপেক্ষা থাকবে।



