বারিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত গোপন গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের জবাবদিহি সরকারকে নির্বাচন করবে।
তারা বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে স্বৈরাচারী শাসনের ভাষা ও আচরণে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি; বরং গোপন গোষ্ঠী এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। এই গোষ্ঠীর নেতারা জনসাধারণের সামনে নারীদের প্রতি অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে সমাজে শোষণ বাড়িয়ে তুলছেন।
তারা আরও জানান, কুমিল্লা জেলার এক গোপন গোষ্ঠীর নেতা ১২ তারিখের আগে জনগণের পা ধরবেন, তবে তার পর জনগণ তাদের পা ধরবে বলে দাবি করেছেন। তিনি এ ধরনের আচরণকে জনগণের মর্যাদার প্রতি অবহেলা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং গোষ্ঠীর মনোভাবের স্তরকে প্রশ্নের মুখে ফেলেন।
গোপন গোষ্ঠীর সঙ্গে স্বৈরাচারী সরকারের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ৭১, ৮৬, ৯৬সহ গত পনেরো বছর ধরে এই গোষ্ঠী শাসনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এই সম্পর্ককে তিনি ‘মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা শাসনের অবিচলতা নির্দেশ করে।
বরিশালের স্থানীয় সমস্যার দিকে দৃষ্টি সরে তিনি বলেন, নদী-ভাঙন এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব কাজের জন্য জনগণের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অপরিহার্য।
তারা উল্লেখ করেন, বহু অবকাঠামো প্রকল্প বিএনপি শাসনে শুরু হয়েছিল, তবে বর্তমান শাসনের অধীনে সেগুলো সম্পন্ন হয়নি। এই কাজগুলো জমে রয়েছে এবং তিনি আশ্বাস দেন, যদি বিএনপি শাসন ফিরে আসে তবে এই সমস্যাগুলোর সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নারী ও পুরুষের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখা কোনো বিকল্প নয়। সমাজের উন্নয়নের জন্য দু’পক্ষের সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান জানান।
তারা উল্লেখ করেন, স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে গোপন গোষ্ঠীর সহযোগিতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ক্ষুণ্ন করছে এবং জনগণের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পরেও শাসনের কোনো প্রতিনিধি থেকে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।
তারা শেষ করে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং গোপন গোষ্ঠীর প্রভাবের পরিমাণ। জনগণকে সচেতনভাবে ভোট দিতে হবে, যাতে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি রক্ষা পায়।
এই র্যালি এবং তারেক রহমানের মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এগুলো স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে গোপন গোষ্ঠীর সম্পর্ক ও তাদের সমাজে প্রভাবের নতুন দিক উন্মোচন করে।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের বক্তব্য গোপন গোষ্ঠীর নতুন জালেমের রূপান্তর, বরিশালের অবকাঠামো সমস্যার সমাধান এবং নারী-পুরুষের সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেন্দ্রীভূত, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



