ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বারিবাথান গ্রামে মঙ্গলবার রাত ৩ ফেব্রুয়ারি সশস্ত্র ডাকাতদের আক্রমণ ঘটেছে। তারা ভোট চাওয়ার নামে বাড়িতে প্রবেশ করে, পরিবারকে জিম্মি করে নগদ, স্বর্ণ ও মোবাইলসহ প্রায় তের লাখ টাকার সম্পদ নিয়ে চলে যায়।
বিক্রয়ী ব্যবসায়ী রওশন আলি, মৃত আব্দুল গনির পুত্র, এই ঘটনার শিকার। তার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন তার ৫৬ বছর বয়সী মা নাজমা খাতুন, ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী রিনা খাতুন এবং দুই সন্তান—সাত বছর বয়সী আব্দুস সালাম ও তিন বছর বয়সী আব্দুস নুর।
ডাকাতরা বাড়িতে প্রবেশের পর প্রথমে রওশন আলির মা, স্ত্রী ও সন্তানদের হাত-পা বেঁধে মুখে টেপ লাগিয়ে জিম্মি করে রাখে। এরপর তারা ঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, স্বর্ণের গয়না ও মোবাইল ফোনসহ মোট প্রায় তের লাখ টাকার সম্পদ চুরি করে।
স্থানীয় কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, ডাকাতরা ধানের শীষের সময় ভোট চাওয়ার ছদ্মবেশে বাড়িতে ঢুকে এই অপরাধ সম্পন্ন করেছে। গ্রামবাসীরা এই ধরনের কাণ্ডে আতঙ্কিত হয়ে রয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
রওশন আলি ঘটনাস্থলে ঝিনাইদহ সদর থানা-তে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরপরই পুলিশ বুধবার সকালে বাড়িতে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারবিল্লাল হোসেন ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং তদন্তের অগ্রগতি জানিয়েছেন।
পুলিশের মতে, ভোট চাওয়ার নামে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করেছে, তবে তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ও সংখ্যা এখনো অনুসন্ধানের অধীনে। তদন্তের অংশ হিসেবে ফোরেন্সিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জিম্মি করা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডাকাতদের ব্যবহৃত অস্ত্র ও গ্যাংয়ের সংগঠন সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা পূর্বে একই অঞ্চলে ভোট চাওয়ার ছদ্মবেশে ছোটখাটো চুরি-ডাকাতিতে লিপ্ত হয়েছে।
ঝিনাইদহের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরনের ভোট চাওয়ার ছদ্মবেশে গৃহহত্যা ও ডাকাতি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোট প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে।
অপরাধের শিকার পরিবারকে সাময়িক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের মানসিক শোক মোকাবিলায় কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হবে। রওশন আলি ও তার পরিবার বর্তমানে পুলিশ রক্ষায় আছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো হুমকি না থাকে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে পুলিশ গ্যাংয়ের সদস্যদের সনাক্তকরণ, তাদের গ্রেফতার ও আইনি প্রক্রিয়া চালু করবে। মামলাটি স্থানীয় আদালতে দায়ের হওয়ার পর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নজরদারি থাকবে।
ঝিনাইদহের স্থানীয় নেতারা ভোটের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, ভোট চাওয়ার নামে কোনো অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি দাবি করছেন।
সামগ্রিকভাবে, এই সশস্ত্র ডাকাতি ঘটনা ভোট চাওয়ার ছদ্মবেশে গৃহহত্যা ও সম্পদ চুরির একটি উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করে অপরাধী গোষ্ঠীকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।



