26 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরায়পুরা উপজেলায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৪ বছর বয়সী কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা

রায়পুরা উপজেলায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৪ বছর বয়সী কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা

নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালবেলায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ১৪ বছর বয়সী মোস্তাকিম মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ওয়ানডি অফিসার মো. মুজিবুর রহমানের মতে, কিশোরটি গুলির পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কোনো প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যায়নি।

অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্যের জন্য এরশাদ ও হানিফ মাস্টার গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোরের দিকে গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় উভয় দিকের কয়েকজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন, তবে সঠিক সংখ্যার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

মোস্তাকিম মিয়া, মাসুদ মিয়ার ছেলে, এই সংঘর্ষে সরাসরি কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে পরিবার দাবি করে। তার পরিবার জানান, কিশোরটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং গুলি তার দিকে আঘাত করে গলায় আঘাত হানেছে।

মোস্তাকিমের মা শাহানাজ বেগম জানান, সকাল প্রায় ৬টায় তিনি ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখনই গুলির শব্দ শোনা যায় এবং গুলি বাড়ির পাশের সড়ক থেকে ছোড়া হয়ে পালিয়ে যায়। গুলির প্রভাবেই তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়।

শাহানাজ বেগম আরও উল্লেখ করেন, তার স্বামী মাসুদ মিয়া বর্তমানে বিদেশে কর্মরত। তিন সন্তান আছে; বড় সন্তান বিদেশে কাজ করেন, আর ছোট সন্তান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করছেন। পরিবার কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নয় এবং তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি চায়।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বিমল বরণ ঘোষ জানান, গুলিবিদ্ধ কিশোরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে এবং প্রাথমিক পরীক্ষায় কোনো প্রাণের স্পন্দন না থাকায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুলির প্রভাবের কারণে শারীরিক ক্ষতি গুরুতর ছিল।

রায়পুরা থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলিবিদ্ধের পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

পুলিশের মতে, সংঘর্ষে জড়িত দুই গোষ্ঠীর সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার অভিযান চালু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতি এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ রোধে সহায়তা করবে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আহত ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি গুলির শিকার হয়ে আহত হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এই ঘটনা রায়পুরা উপজেলায় গোষ্ঠী ভিত্তিক হিংসার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার আশা করা হচ্ছে।

৭৯/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাকBanglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments