বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ৪ ফেব্রুয়ারি শের‑এ‑বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একটি বৈঠকের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট পথনকশা ব্যাপকভাবে পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত জানায়। সভাটি বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং গ্রাসরুট উন্নয়ন, বয়স‑গোষ্ঠীর ক্রিকেট এবং খেলোয়াড়‑কোচের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতির দিকে মনোযোগ দেয়া হয়।
বৈঠকে বোর্ডের পরিচালক নাজমুল আবেদিন, খালেদ মশুদ, খান আব্দুর রজাক এবং আমজাদ হুসাইনসহ সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় সিলেকশন প্যানেলের চেয়ারগেজি গাজি আশরাফ হোসেন, টুর্নামেন্ট ম্যানেজার আবু এমাম মোহাম্মদ কাউসার, জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহুদ্দিন, সিনিয়র কোচ মিজানুর রহমান এবং শোহেল ইসলাম, জাতীয় সিলেক্টর হাসিবুল হোসেন, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফ, এইচপি ইন‑চার্জ জামাল উদ্দিন বাবু এবং মহিলা ক্রিকেট ইন‑চার্জ বুলবুল বসার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের অন্যতম মূল প্রস্তাব ছিল অ্যান্ড‑২৩ বয়স গোষ্ঠীর জন্য একটি জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি প্রোগ্রাম চালু করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ প্রতিভাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ সুবিধা, শারীরিক ও মানসিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করা হবে।
বিসিবি উল্লেখ করে যে, গ্রাসরুট ও বয়স‑গোষ্ঠীর বর্তমান কাঠামো পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স‑গোষ্ঠীর সিলেকশন প্রক্রিয়া এবং বয়স যাচাই পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য সংশোধন প্রয়োজন বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
কোচদের জন্য প্রণোদনা ব্যবস্থা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, যারা তাদের দায়িত্বে থাকা খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সফল হন, তাদের জন্য আর্থিক ও পেশাগত পুরস্কার নির্ধারণ। এই ব্যবস্থা কোচিং মানদণ্ডকে উঁচুতে তুলতে এবং তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশে কোচদের ভূমিকা শক্তিশালী করতে লক্ষ্য রাখে।
অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সব দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের একটি সমন্বিত ডাটাবেস গঠন। এই ডাটাবেসের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, পারফরম্যান্স ট্র্যাকিং এবং ট্যালেন্ট স্কাউটিং সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠকে বিভাগীয় ও জেলা কোচদের বেতন কাঠামো সম্পর্কেও আলোচনা হয়। বর্তমান বেতন নীতি পর্যালোচনা করে, কোচদের কাজের পরিমাণ ও দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি স্পষ্ট ও কাঠামোগত বেতন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
বিসিবি এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আটটি আঞ্চলিক হাব স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই হাবগুলোতে প্রশিক্ষণ সুবিধা, টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং স্থানীয় প্রতিভা চিহ্নিত করার জন্য কেন্দ্রিকায়িত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। হাবগুলোকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমগ্রিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলোকে দেশের ক্রিকেটের ভিত্তি মজবুত করা, তরুণ খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি প্রদান এবং কোচিং স্টাফের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিসিবি উল্লেখ করেছে, উপরে উল্লেখিত সকল প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য একটি সময়সূচি তৈরি করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দায়িত্ব অর্পণ করা হবে। ভবিষ্যতে এই রিভিউয়ের ফলাফল অনুযায়ী অতিরিক্ত নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, যা দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।



