নরসিংদি জেলার রায়পুরা উপজেলা, সয়দাবাদ গ্রামাঞ্চলে আজ প্রভাতের সময় চরের দখল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলি মারা যায়। শিকারের নাম মোস্তাকিম, যিনি সয়দাবাদ গ্রাম থেকে এসেছিলেন।
সংঘর্ষের মূল দুই পক্ষ হল হানিফ মাস্টার গোষ্ঠী এবং এরশাদ উল্লাহ গোষ্ঠী, যা স্থানীয় সূত্রে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহন করে। উভয় গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন সদস্যরা প্রায় পাঁচটায় একত্রিত হয়ে চরের নিয়ন্ত্রণের জন্য মুখোমুখি হয়।
স্থানীয় পুলিশ অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্ট (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার জানান, মোস্তাকিমের কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ছিল কিনা তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা সকাল পাঁচটায় তীব্র হয়ে ওঠে।
প্রায় পাঁচটায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়, যা দ্রুত গুলিবর্ষণে রূপ নেয়। গুলির শিকার মোস্তাকিমকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
মোস্তাকিমের শিরায় বাম পাশে গুলির আঘাত পাওয়া যায়। রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের ডাক্তারের মতে, শিকারের শারীরিক অবস্থা হাসপাতালে পৌঁছানোর মুহূর্তে ইতিমধ্যে স্থবির ছিল।
মোস্তাকিমের মা শাহানাজ বেগম জানান, গৃহের পাশে অচেনা লোকজন গিয়ে হঠাৎ গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবারের কোনো সদস্য কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নয় এবং শিকারের পিতা বর্তমানে বিদেশে কর্মরত। শাহানাজ বেগম ন্যায়বিচার দাবি করেন।
স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আরেকজন চিকিৎসক বিমল বারন ঘোষ উল্লেখ করেন, গুলির আঘাত বাম পাশে ছিল এবং শিকারের মৃত্যু গুলির তীব্রতার ফলে ঘটেছে। তিনি বলেন, শিকারের শারীরিক অবস্থা হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই অপরিবর্তনীয় হয়ে যায়।
সংঘর্ষে মোট পাঁচজন আহত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৪ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত, যিনি একই গ্রাম থেকে এসেছেন। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনা স্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপে অবস্থা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং গুলিবর্ষণ বন্ধ হয়।
অধিকর্তা জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। গুলিবর্ষণে জড়িত সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিক তদন্তে গুলিবর্ষণের কারণ চরের নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান বিরোধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চরভূমি নিকটবর্তী গ্রামগুলোতে অতীতেও অনুরূপ সংঘর্ষের ঘটনা রেকর্ডে রয়েছে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় আদালতে মামলার রায়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, শিকারের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজের শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে, এবং চরের দখল নিয়ে চলমান বিরোধের সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।



