চীনের বসন্ত উৎসবের প্রস্তুতি চলাকালে টম ফেলটনের ড্রাকো মালফয় চরিত্রটি অপ্রত্যাশিতভাবে চন্দ্র নববর্ষের সাজসজ্জার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিক্রিত পণ্যে তার মুখমণ্ডল স্পষ্টভাবে দেখা যায়, আর বহু পরিবার তার ছবি দিয়ে দরজা ও জানালায় অলংকরণ করে। এই প্রবণতা মূলত চরিত্রের চীনা নামের অনন্য শব্দগঠনের ফলে উদ্ভূত হয়েছে।
মালফয়ের চীনা অনুবাদ “মা-এর-ফু” দুটি শব্দের সমন্বয়, যেখানে “মা” মানে ঘোড়া এবং “ফু” মানে সৌভাগ্য। চলমান ঘোড়া বছরের আগমনের সঙ্গে এই নামের সমন্বয় বিশেষভাবে শুভ হিসেবে বিবেচিত হয়, ফলে মানুষ নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাতে এই চরিত্রকে বেছে নিয়েছে।
হ্যারি পটার সিরিজ চীনে বিশাল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে; শত কোটি বই বিক্রি হয়েছে এবং ২০২০ সালে প্রথম ছবির পুনঃমুক্তি মাত্র তিন দিনে ৯০ মিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ১৩.৬ মিলিয়ন ডলার) আয় করেছে। এই বিশাল ভক্তবৃত্তি ড্রাকো মালফয়ের চিত্রকে নববর্ষের সাজসজ্জায় অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
চীনা বাড়িগুলো সাধারণত নববর্ষের সময় দরজায় জোড়া জোড়া শুভেচ্ছা লেখা কুপলেট ঝুলিয়ে রাখে, যা স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে। এছাড়া লাল রঙের চতুর্ভুজ কাগজে “福” (সৌভাগ্য) অক্ষর মুদ্রিত ফুজি নামের পত্রও জনপ্রিয়, যা উল্টো করে ঝুলালে “到福” (সৌভাগ্য আসা) শব্দের সঙ্গে উচ্চারণের সাদৃশ্যের কারণে ভাগ্য বাড়ার প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়।
চীনা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ব্যবহারকারীরা মালফয়ের স্বাক্ষরিক হাসি সহ কুপলেট বা উল্টো ফুজি ছবি পোস্ট করে ভাগ্য বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। এই ছবিগুলো প্রায়ই লাল পটভূমিতে সাজানো থাকে, যা ঐতিহ্যবাহী রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অনলাইন শপিং সাইট তাওবাওতে বিক্রেতারা দ্রুত এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে স্টিকার, চুম্বক এবং ছোট সজ্জা পণ্য তৈরি করেছে, যেখানে ড্রাকো মালফয়ের মুখমণ্ডল কেন্দ্রীয় নকশা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই পণ্যগুলো নববর্ষের শপিং তালিকায় দ্রুত স্থান পেয়েছে এবং বিক্রয় সংখ্যা বাড়ছে।
ব্যবহারকারীদের মন্তব্যে প্রায়ই “ম্যাজিক্যাল উপাদানসহ ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ” এবং সিরিজের ভাগ্যবর্ধক পানীয় “ফেলিক্স ফেলিসি”র উল্লেখ দেখা যায়, যা চরিত্রের জাদুকরী গুণকে নববর্ষের শুভকামনার সঙ্গে যুক্ত করে। এই ধরনের রেফারেন্সগুলো নতুন বছরের আনন্দে অতিরিক্ত রঙ যোগ করেছে।
টম ফেলটন নিজে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে জানিয়েছেন যে তার চরিত্রটি চীনে চন্দ্র নববর্ষের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার এই স্বীকৃতি চীনের সামাজিক নেটওয়ার্কে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে ভক্তরা আরও বেশি করে মালফয়ের ছবি শেয়ার করে শুভেচ্ছা পাঠাচ্ছেন।
ফেলটনের পোস্টের পর চীনা ব্যবহারকারীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, এবং বহু নতুন পোস্টে “শুভ নববর্ষের জন্য এই ছবি শেয়ার করুন” এমন আহ্বান দেখা যায়। এই ডিজিটাল প্রচারণা ঐতিহ্যবাহী রীতির সঙ্গে আধুনিক পপ সংস্কৃতির মিশ্রণকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
এই প্রবণতা দেখায় কীভাবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও সাহিত্যকর্মের চরিত্রগুলো স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে নতুন অর্থ পায়। ঘোড়া বছরের আগমনে ঘোড়া ও সৌভাগ্যের প্রতীকী অর্থ বহনকারী নামের সঙ্গে ড্রাকো মালফয়ের চিত্রের সমন্বয় চীনা জনগণের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।
চন্দ্র নববর্ষের প্রস্তুতি চলতে থাকায়, ড্রাকো মালফয়ের চিত্র ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন সজ্জা পণ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা পপ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী রীতির সৃজনশীল সংমিশ্রণকে প্রতিফলিত করবে। এই উদাহরণটি দেখায় কীভাবে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় চরিত্রগুলো স্থানীয় উৎসবের অংশ হয়ে নতুন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা গড়ে তুলতে পারে।



