টোবাগোর একটি ছোট দ্বীপে অবস্থিত সমুদ্র সৈকতে ৬৬ বছর বয়সী পিটার স্মিথ, হের্টফোর্ডশায়ার থেকে আসা অবসরপ্রাপ্ত আইটি পরিচালক, তার স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুবান্ধবের সাথে ছুটিতে ছিলেন। ছুটির শেষ দিনের শেষ ঘণ্টায় তিনি সাঁতার কাটার সিদ্ধান্ত নেন, যখন সমুদ্রের অবস্থা সাঁতারের জন্য আদর্শ ছিল। প্রায় ছয় মিটার দূর পর্যন্ত পা দিয়ে হেঁটে তিনি কোমরের স্তরে পানিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সেই সময়ে শার্কের আক্রমণ টোবাগোর সমুদ্রতটে খুবই বিরল, তাই পিটার ও তার সঙ্গীজন এ বিষয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। হঠাৎ করে তার পায়ে একটি ভারী বস্তু আঘাত করে, তিনি নিচে তাকিয়ে দেখেন একটি বিশাল শার্ক তার দিকে এগিয়ে আসছে। শার্কটির দৈর্ঘ্য প্রায় তিন মিটার, যা স্থানীয় পানিতে দেখা যায় না এমন বড়।
পিটার জানেন যে এটি বুল শার্ক, যা বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক শার্কের একটি এবং অগভীর জলে শিকার করার জন্য পরিচিত। শার্কের দাঁত তার পা চেপে ধরার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা চিনতে পারেন। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তিনি নিজেকে রক্ষা করার জন্য শার্কের দিকে আঘাত করা শুরু করেন। তিনি স্বীকার করেন যে শার্ককে আঘাত করা তার জীবনে কখনো না করা সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাত ছিল।
শার্কটি তার পা ছাড়িয়ে বাম হাত ও পেটের দিকে অগ্রসর হয়, ফলে পিটারের রক্তক্ষরণ দ্রুত বাড়ে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রুত ঘটতে থাকে, এবং রক্তের ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে। শার্কের আক্রমণ থামার পরই কাছাকাছি থাকা বন্ধুজন তাকে পানির বাইরে টেনে আনে।
পিটারের সঙ্গে সাঁতার কাটছিলেন তার বন্ধু জন ও মোইরা, যারা শার্কের সঙ্গে লড়াই করে সতর্কতা জানান। মোইরার চিৎকারে পিটারের স্ত্রী জোয়ানা তৎক্ষণাৎ তীরে দৌড়ে এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। জোয়ানা শার্কের আক্রমণে পিটারের পেট ও হাতের গভীর ক্ষত দেখেন, যেখানে হাড়ের অংশও দৃশ্যমান ছিল। তিনি বলেন, “আমি এমন দৃশ্য দেখেছি যা কল্পনাতীত, হাড়ের টুকরা দেখা গিয়েছিল”।
পিটারের ক্ষতগুলো টোবাগোর একমাত্র হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পেটের গভীর কাটা, পা ও হাতের ক্ষত পরিষ্কার করে রক্ত সঞ্চালন শুরু করা হয়। চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন, বুল শার্কের কামড়ে গভীর টিস্যু ক্ষতি এবং রক্তক্ষরণ দ্রুত ঘটতে পারে, তাই তৎক্ষণাত্ চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।
শার্কের কামড়ে সংক্রমণ, শক, এবং রক্তাল্পতা প্রধান ঝুঁকি। পিটারের ক্ষেত্রে রক্তের পরিমাণ দ্রুত কমে যাওয়ায় রক্ত সঞ্চালন এবং শারীরিক পুনরুদ্ধারের জন্য কয়েক দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। চিকিৎসা দল শার্কের কামড়ে সম্ভাব্য ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ রোধে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন।
বুল শার্কের আক্রমণ অল্প গভীর জলে ঘটতে পারে, তাই সাঁতার কাটার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সন্ধ্যা বা ভোরের সময়, যখন শার্কের কার্যকলাপ বাড়ে, সাঁতার এড়িয়ে চলা বা নিরাপদ জলে সাঁতার কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া, সমুদ্রের পৃষ্ঠে মাছের রক্ত বা মাছের গন্ধ থাকলে শার্ক আকৃষ্ট হতে পারে, তাই খাবার পরিষ্কার রাখা দরকার।
পিটারের অভিজ্ঞতা শার্কের আক্রমণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক। যদিও শার্কের আক্রমণ বিরল, তবে অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি। সাঁতার কাটার আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর সংরক্ষণ করা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
চিকিৎসা দিক থেকে, শার্কের কামড়ে দ্রুত রক্ত সঞ্চালন, শক নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পিটারের ক্ষেত্রে রক্তের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রক্ত সঞ্চালন এবং টিস্যু পুনর্গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর পুনর্বাসন ও শারীরিক থেরাপি প্রয়োজন হতে পারে।
পিটার ও জোয়ানা এখনো শার্কের প্রতি ভয় প্রকাশ করেন না, তবে তারা এই ঘটনার মাধ্যমে শার্কের আচরণ ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান। তাদের অভিজ্ঞতা অন্য পর্যটকদের জন্য সতর্কতা হিসেবে কাজ করতে পারে, যাতে সমুদ্রের আনন্দ উপভোগের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়।
শার্কের আক্রমণ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া এবং স্থানীয় পর্যটন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ সাঁতারস্থান নির্ধারণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমাতে সমুদ্রের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।



