লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যগুলো লেবার পার্টির অভ্যন্তরে বিশাল বিরক্তি ও বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ এই অভিযোগগুলো তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা এক প্রজন্মের অন্যতম বড় রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে রূপ নিতে পারে।
প্রকাশিত অভিযোগগুলো প্রায় পনেরো বছরের পুরনো ঘটনা নিয়ে, যা এখনো সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়নি। এই তথ্যগুলো প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কেলেঙ্কারির সম্ভাব্য মাত্রা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
লর্ড ম্যান্ডেলসনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘদিনই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তিনি বহুবার উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তবে প্রত্যেকবারই কোনো না কোনো বিতর্কের কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
১৯৯৮ সালে তিনি ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সেক্রেটারি পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যখন প্রকাশ পায় যে তিনি এক সহকর্মী মন্ত্রী থেকে ত্রিশ লক্ষ পাউন্ড ধার নিয়েছিলেন। এই আর্থিক লেনদেনের পর্যালোচনা তখনই তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়।
২০০১ সালে তিনি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড সেক্রেটারি পদ থেকে পদত্যাগ করেন, কারণ একটি ভারতীয় বিলিয়নিয়ারের পাসপোর্ট আবেদন নিয়ে বিতর্ক উত্থাপিত হয়। এই ঘটনা তার আন্তর্জাতিক নীতি পরিচালনার ওপর প্রশ্ন তুলেছিল।
গত বছর, যুক্তরাজ্যের যুক্তরাষ্ট্রে দূত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ম্যান্ডেলসনকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পদত্যাগকে তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যগুলো যে কোনো প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ, তবে তাদের প্রভাব বাড়িয়ে তুলেছে যে এগুলোকে শুধুমাত্র ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বাদ দেওয়া যায় না।
মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রধানত পনেরো বছরের পুরনো অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে তদন্ত চালাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই তদন্তের ফলাফল লেবার পার্টির অভ্যন্তরে এবং জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সময়ে রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে স্যার কীর স্টারমারের সিদ্ধান্ত, যিনি এক বছর আগে ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। এই নিয়োগ এখন প্রশ্নের মুখে, কারণ নতুন প্রকাশিত তথ্যগুলো তার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ উত্থাপন করে।
লেখক স্মরণ করেন, গত ফেব্রুয়ারি তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী একসাথে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ হয়। উড্ডয়নের পর দু’ঘণ্টা পরে, যুক্তরাজ্যের দূতাবাসে একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশটি ভিড়পূর্ণ হলে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক ও তার প্রশাসনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্যার কীর স্টারমার ম্যান্ডেলসনের নতুন ভূমিকাকে নিয়ে একটি রসিকতা করেন, যা উপস্থিত সবাই হেসে গ্রহণ করে।
এই মুহূর্তে উষ্ণতা ও বন্ধুত্বের পরিবেশ স্পষ্ট ছিল, এবং একই সঙ্গে নং ১০ থেকে একটি কৌশলগত বার্তা পাঠানো হয়েছিল: ম্যান্ডেলসনকে দূত হিসেবে ব্যবহার করা একটি রাজনৈতিক গণনা।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই কেলেঙ্কারির ফলে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে এবং পার্টির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। পার্লামেন্টে এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন হতে পারে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে মেট্রোপলিটন পুলিশ তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর, লেবার পার্টি অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিতে পারে, যার মধ্যে ম্যান্ডেলসনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পুনর্মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন করে গঠন করার সম্ভাবনা রাখে।



