বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনি-৩ নির্বাচনী প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সোনাগাজী পৌরসভা চত্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে জামায়াত-এ-ইসলামির ক্ষমতায় আসা নিষেধের দৃঢ় ঘোষণা দেন। তিনি উপস্থিত জেলা ও উপজেলা নেতাকর্মীদের সামনে এই বক্তব্য রাখেন এবং ভোটারদেরকে ধানের শীষে ভোট দিতে আহ্বান জানান।
র্যালির স্থান হিসেবে সোনাগাজী পৌরসভা চত্বর নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচনী কর্মসূচির অংশে বেছে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহেনা আক্তার শানু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন সেন্টু, সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূঞা এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মিন্টু র্যালিতে স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি ধারাবাহিকভাবে জনগণের পেছনে খোঁচা খুঁচি করে এবং দেশের উন্নয়নে কোনো অবদান রাখে না। তিনি উল্লেখ করেন, এই দল দেশের অবস্থা সিরিয়া-লেবাননের মতো করে তুলতে চায় এবং তাই তাদের ক্ষমতায় আসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তিনি আরও যুক্তি দেন, জামায়াত-এ-ইসলামি জনগণের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয় না, বরং মারামারির পরিবেশ তৈরি করতে চায়। দলকে ‘মুনাফেকি’ ও ‘সুযোগ সন্ধানী’ বলে সমালোচনা করে, এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে শয়তানের সুযোগ সন্ধানী চিন্তা হিসেবে বর্ণনা করেন। দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে আল্লাহর রহমতে আর কোনো সুযোগ না দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
মিন্টু ভোটারদেরকে ধানের শীষে ভোট দিতে অনুরোধ করেন, যদি বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে এবং তার পার্টির যোগ্য নেতা তারেক রহমান সরকার প্রধান হন, তবে আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ অগ্রগতি করবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে তিনি একটি সুযোগ পাবেন এবং সেই সুযোগকে সৎভাবে ব্যবহার করবেন।
উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি হিসেবে তিনি ফেনি-৩ আসনের সোনাগাজী ও দাগনভূঞায় নদী ভাঙন, স্কুলের মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি সহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানান। এসব কাজের জন্য তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
র্যালিতে উপস্থিত নেতাকর্মীরা মিন্টুর বক্তব্যকে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রচারণায় একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের শানু উপস্থিতি নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশলকে শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই র্যালি বিএনপির ফেনি-৩ আসনে জোরদার অবস্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি জামায়াত-এ-ইসলামির সঙ্গে কোনো জোট গঠনের সম্ভাবনা দূর করতে লক্ষ্য রাখে। আগামী নির্বাচনে ভোটারদের ভোটের প্রবণতা কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে মিন্টুর এই ধরনের সরাসরি আহ্বান এবং উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



