উত্তর প্রদেশের উমরি গ্রামে ১৯ বছর বয়সী হিন্দু কজল এবং ২৭ বছর বয়সী মুসলিম মোহাম্মদ আরমানের দেহ ২১ জানুয়ারি নদীর তীরের কাছাকাছি পাওয়া যায়। দুজনের সম্পর্কের কারণে গৃহস্থালি সংঘর্ষের পর দুজনকে দুদিন আগে একে অপরের কাছাকাছি গোপন স্থানে গুলি না করে, কুড়াল দিয়ে মারধর করা হয় বলে পুলিশ জানায়।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, কজলের তিন ভাই, যারা মরাদাবাদ শহরে মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন, তাদের উপর সন্দেহ রয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। বর্তমানে তারা জেলখানায় আটক রয়েছে এবং ঘটনায় কোনো মন্তব্য করেনি।
উমরি গ্রাম দিল্লি থেকে প্রায় ১৮২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এখানে প্রায় চারশো পরিবার বসবাস করে, যেখানে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বাসিন্দা একসঙ্গে বাস করে। গ্রামবাসীরা জানান, বহু বছর ধরে এখানে ধর্মীয় সংঘর্ষের কোনো রেকর্ড নেই এবং সামাজিক সম্পর্ক সাধারণত সুমধুর।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল মুনিরাজ গে উল্লেখ করেন, এই মামলাটি “সম্মানজনিত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে পারিবারিক বা সামাজিক গোষ্ঠী কোনো ব্যক্তিকে ধর্ম বা কাস্টের বাইরে প্রেম বা বিবাহের জন্য শাস্তি দেয়।
ভারতের জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো ২০১৪ সাল থেকে সম্মানজনিত হত্যাকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু করে এবং ২০২৩ সালে মোট ৩৮টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করেন, প্রকৃত সংখ্যা শত শত হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের অপরাধকে সাধারণ হত্যা হিসেবে গোনা হয়।
উমরি গ্রাম মরাদাবাদ জেলার অধীনে পড়ে, যা ধাতু শিল্পের জন্য পরিচিত এবং বেশিরভাগই গ্রামীণ পরিবেশে বসবাস করে। এখানে সামাজিক স্তরবিন্যাস এখনও শক্তভাবে প্রভাবশালী, যা দৈনন্দিন জীবনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে।
কজলের ভাইদের কাজের পটভূমি মিস্ত্রি হওয়ায় তারা মরাদাবাদ শহরের নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই পেশাগত পটভূমি তাদের গ্রামীয় সমাজে কিছুটা মর্যাদা এনে দিয়েছে, তবে একই সঙ্গে পারিবারিক গৌরব রক্ষার জন্য কঠোর মনোভাবের কারণও হতে পারে।
গ্রামবাসী মহিপাল সাইনির মতে, কজল ও আরমানের সম্পর্ক গ্রামটির প্রথম আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক ছিল। দুজনই পার্শ্ববর্তী বাড়িতে থাকতেন, তাদের বাড়ি প্রায় দুইশো মিটার দূরে, এবং উভয়ই স্বভাবতই অন্তর্মুখী বলে পরিচিত ছিলেন।
বিবাহের কোনো আনুষ্ঠানিক রীতি না থাকলেও, তাদের পারস্পরিক স্নেহ ও সমর্থন গ্রামবাসীর দৃষ্টিতে স্পষ্ট ছিল। তবে এই সম্পর্কের প্রকাশের পরপরই পরিবারিক বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত দুজনের প্রাণহানি ঘটে।
বর্তমানে কজলের তিন ভাইকে অপরাধমূলক দায়ের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে হিংসা ও সম্মানজনিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে। তদন্ত চলমান থাকায় পুলিশ অতিরিক্ত সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় আদালতকে মামলাটি দ্রুত শোনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শিকারের পরিবার ও গ্রামবাসীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামটির সামাজিক পরিবেশে পুনরায় শান্তি ও সমঝোতা বজায় রাখার জন্য স্থানীয় নেতারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।



