ভারত ভিত্তিক ক্লাইমেট টেক স্টার্ট‑আপ ভারাহা ২০ মিলিয়ন ডলার তাজা তহবিল সংগ্রহ করেছে, যা গ্লোবাল সাউথের কার্বন অপসারণ প্রকল্পের পরিসর বাড়াতে ব্যবহার করা হবে। এই তহবিল সিরিজ বি রাউন্ডের প্রথম অংশ, মোট ৪৫ মিলিয়ন ডলার লক্ষ্য নিয়ে, এবং ওয়েস্টব্রিজ ক্যাপিটালের নেতৃত্বে গৃহীত হয়েছে। ওয়েস্টব্রিজের জন্য এটি ক্লাইমেট টেক ক্ষেত্রে প্রথম বিনিয়োগ, যেখানে পূর্বে আরটিপি গ্লোবাল ও অম্নিভোরের মতো বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরাও অংশগ্রহণ করেছেন।
ভারাহা ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৩ মিলিয়ন ডলার ইকুইটি তহবিল সংগ্রহ করেছে। তাছাড়া, কোম্পানি ৩৫ মিলিয়ন ডলার প্রকল্প অর্থায়ন এবং অর্ধ মিলিয়ন ডলার গ্র্যান্ট পেয়েছে, যা এশিয়া ও আফ্রিকায় কার্বন অপসারণ প্রকল্প গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভারতকে কার্বন অপসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এখানে অপারেটিং খরচ কম, কৃষি সরবরাহ শৃঙ্খল গভীর এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার বড় পুল রয়েছে। একই সঙ্গে, ডেটা সেন্টার ও এআই ওয়ার্কলোডের বাড়তি শক্তি ব্যবহারকারী কর্পোরেশনগুলো যাচাই করা অপসারণের চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে।
ভারাহা এই সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেকে কম দামের যাচাই করা নির্গমন হ্রাসের সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান করতে চায়। কোম্পানির মডেল কার্যকরী বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে, যা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় উচ্চ মূল্যের প্রতিযোগীদের সমমানের আন্তর্জাতিক যাচাই মান বজায় রেখে কম খরচে কার্বন অপসারণ সরবরাহ করতে সক্ষম।
কোম্পানির সিইও ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা মধুর জৈন উল্লেখ করেন, ভারাহার মূল শক্তি কোনো স্বতন্ত্র প্রযুক্তিতে নয়, বরং প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতায়। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ বাজারে উচ্চ অপারেটিং খরচ ভবিষ্যতে ডেভেলপারদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন ক্রেডিটের দাম চাপের মধ্যে থাকে।
কার্বন ক্রেডিটকে ব্যবসার ব্যালেন্স শিটে একটি ব্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়, কোনো সিএসআর উদ্যোগ নয়, এ কথাটি জৈন জোর দিয়ে বলেন। যদি কোনো ভৌগোলিক অঞ্চলের ক্রেডিট উৎপাদনের খরচ ১.৫ গুণ থেকে ৩ গুণ বেশি হয়, তবে সেই কোম্পানিগুলোর জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
ভারাহা চারটি প্রধান পদ্ধতিতে কার্বন অপসারণ প্রকল্প চালু করে, যার মধ্যে পুনর্জনন কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। অন্যান্য পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ প্রকাশ না করলেও, কোম্পানি এই সব পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক যাচাই মান অনুসরণ করে।
কম দামের এবং যাচাই করা ক্রেডিটের সরবরাহে সক্ষমতা অর্জনের ফলে, বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো গ্লোবাল সাউথের প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে। এটি শুধু ভারাহার জন্যই নয়, পুরো অঞ্চলের কার্বন রিমুভাল বাজারের গঠনেও পরিবর্তন আনতে পারে।
তবে স্কেল বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। আন্তর্জাতিক যাচাই প্রক্রিয়ার কঠোরতা, স্থানীয় নিয়মাবলী এবং প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যায়।
ভারাহা এই তহবিল ব্যবহার করে এশিয়া ও আফ্রিকায় নতুন প্রকল্প শুরু করতে এবং বিদ্যমান প্রকল্পের ক্ষমতা বাড়াতে পরিকল্পনা করেছে। লক্ষ্য হল কম দামের, স্বচ্ছ এবং যাচাই করা কার্বন ক্রেডিটের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা।
সারসংক্ষেপে, ভারাহার তাজা তহবিল এবং কার্যকরী মডেল গ্লোবাল সাউথকে কার্বন অপসারণের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সম্ভাবনা তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কর্পোরেশনগুলোর জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে।



