ব্রিটেনের অক্সফোর্ডশায়ারে বৃহস্পতিবার প্রাকৃতিক কারণেই ৯৭ বছর বয়সে কেনেথ হাইম্যানের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তিনি হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী চলচ্চিত্র নির্বাহী ও প্রযোজক, যিনি ‘দ্য হিল’ ও ‘দ্য ডার্টি ডজন’ সহ বহু উল্লেখযোগ্য ছবির পেছনে ছিলেন।
কেনেথ হাইম্যানের ক্যারিয়ার তার পিতার সঙ্গে যুক্ত, যিনি ইলিয়ট হাইম্যানের নামেও পরিচিত, এবং ১৯৫৭ সালে রে স্টার্কের সঙ্গে মিলিত হয়ে সেভেন আর্টস প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থায় কাজের পর ১৯৬৭ সালে সেভেন আর্টস ওয়ার্নার ব্রাদার্সের অধিগ্রহণের পর, হাইম্যান নতুন সংস্থার বৈশ্বিক উৎপাদন বিভাগে নেতৃত্ব দেন।
হাইম্যানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল গর্ডন পার্কসকে প্রথম ফিচার চলচ্চিত্র পরিচালনার সুযোগ প্রদান করা। পার্কস, যিনি লাইফ ও ভোগের মতো প্রধান ম্যাগাজিনের ফটোগ্রাফার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত তার অর্ধ-আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘দ্য লার্নিং ট্রি’ ভিত্তিক চলচ্চিত্রের জন্য হাইম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সেই সাক্ষাৎটি মাত্র পনেরো মিনিটের ছিল, তবে হাইম্যানের দ্রুত অনুমোদন পার্কসকে প্রধান স্টুডিওতে প্রথম কালো পরিচালক হিসেবে কাজ করার দরজা খুলে দেয়। এভাবে ‘দ্য লার্নিং ট্রি’ ১৯৬৯ সালে মুক্তি পায়, যা ক্যানসাসের ১৯২০-এর দশকের যুবক নিউট উইংগারের জীবনের গল্প তুলে ধরে।
চলচ্চিত্রে নিউটের চরিত্রে অভিনয় করেন কাইল জনসন, যিনি নিকেল নিকোলসের পুত্র। পার্কস নিজে প্রযোজনা ও সঙ্গীত রচনা করেন, এবং ছবির জন্য ১২ জন কৃষ্ণাঙ্গ কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে হোলিউডের সাদা ইউনিয়নের বিরোধিতার মুখোমুখি হন। তবু ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সমর্থন তাকে সফলভাবে কাজ সম্পন্ন করতে সহায়তা করে।
‘দ্য লার্নিং ট্রি’ চলচ্চিত্রটি ১৯৮৯ সালে লাইব্রেরি অফ কংগ্রেসের প্রথম ২৫টি ‘সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক বা নান্দনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ চলচ্চিত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এই স্বীকৃতি পার্কসের কাজের গুরুত্বকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরেছে।
কেনেথ হাইম্যানের মৃত্যুর খবর চলচ্চিত্র জগতে শোকের স্রোত নিয়ে এসেছে। তার অবদান শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সাফল্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি নতুন প্রতিভা ও বৈচিত্র্যের পথপ্রদর্শক হিসেবেও স্মরণীয়।
হাইম্যানের ক্যারিয়ার ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ দশকের মধ্যে গড়ে উঠেছে, যেখানে তিনি সেভেন আর্টসের অধীনে বিভিন্ন চলচ্চিত্রের উৎপাদন তত্ত্বাবধান করেন এবং পরে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের বৈশ্বিক উৎপাদন নীতি গড়ে তোলেন। তার নেতৃত্বে স্টুডিওটি আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করে।
তার পিতার প্রতিষ্ঠিত সেভেন আর্টসের সঙ্গে তার কাজের সমন্বয় হাইম্যানকে শিল্পের পরিবর্তনশীল প্রবণতায় দ্রুত অভিযোজিত হতে সাহায্য করে। তিনি নতুন প্রযুক্তি ও বর্ণময় কাস্টিং নীতি গ্রহণে অগ্রণী ছিলেন, যা পরবর্তীতে শিল্পের মানদণ্ডকে প্রভাবিত করে।
হাইম্যানের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কমই জানা যায়, তবে জানা যায় তিনি অক্সফোর্ডশায়ারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ দিনগুলো কাটিয়েছেন। তার প্রিয়জন ও সহকর্মীরা তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে তার কাজকে তুলে ধরছেন।
চলচ্চিত্র ইতিহাসে হাইম্যানের অবদানকে স্মরণ করে, শিল্পের বিভিন্ন সংস্থা ও পুরস্কার সমিতি তার স্মৃতিতে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগগুলো তার শিল্পে অবদানের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে।
কেনেথ হাইম্যানের মৃত্যু চলচ্চিত্র শিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি চিহ্নিত করে, তবে তার কাজ ও দৃষ্টিভঙ্গি নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য পথপ্রদর্শক রয়ে যাবে। তার স্মৃতি ও অবদানকে সম্মান জানিয়ে, শিল্পের সকল অংশীদারকে তার জীবন থেকে শিক্ষা নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।



