যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং কয়েকটি রাজ্য গুগলকে আরোপিত শাস্তি কঠোর করার জন্য আদালতের পূর্বের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছে। ডি.ও.জের অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগ গতকাল টুইটারে জানিয়েছে যে গুগলকে ক্রোম ব্রাউজার বিক্রি না করার রায়ের ওপর পুনরায় আপিল করা হবে। একই সঙ্গে, ব্লুমবার্গের সূত্রে জানা যায় যে বেশ কিছু রাজ্যও এই আপিলে যুক্ত হয়েছে।
২০২৫ সালে গুগলকে একচেটিয়া বাজারের দখলদার হিসেবে ঘোষিত করা হয়েছিল, তবে সেই রায়ে ক্রোম বিক্রি না করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল জাস্টিস বিভাগ তখন ক্রোমের বিক্রয়কে শর্ত হিসেবে চেয়েছিল, কিন্তু জেলি অ্যামিত মেহতা তা অস্বীকার করেন। মেহতার রায়ে বলা হয়েছে যে গুগলকে বাধ্যতামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিক্রি করতে বলা অযৌক্তিক, কারণ সেগুলো কোনো অবৈধ সীমাবদ্ধতা আরোপে ব্যবহৃত হয়নি।
তবে রায়ে গুগলের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, নির্দিষ্ট সেবার বিতরণে একচেটিয়া চুক্তি শেষ করা এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সার্চ ডেটা শেয়ার করার বাধ্যবাধকতা গৃহীত হয়েছে। এই শর্তগুলো গুগলের বাজারে প্রভাব কমাতে এবং প্রতিযোগিতাকে উত্সাহিত করতে লক্ষ্য করা হয়েছে।
গুগল ইতিমধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে নিজস্ব আপিল দায়ের করেছে। কোম্পানি দাবি করে যে শাস্তি হ্রাস করে তাকে অধিকতর স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ অবস্থায় রাখবে, যেখানে ডি.ও.জে আরও কঠোর শাস্তি চায়। উভয় পক্ষের আপিলের ফলাফল শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুগলের ব্যবসায়িক কৌশল ও বাজারের গঠন অনিশ্চিত রয়ে যাবে।
ডি.ও.জের অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগ টুইটের মাধ্যমে জানিয়েছে যে তারা রায়ের পুনর্বিবেচনা চায়, যাতে গুগলকে অতিরিক্ত শাস্তি আরোপ করা যায়। এই শাস্তি গুগলের আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন যে যদি গুগলকে বড় আর্থিক জরিমানা বা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক শর্ত আরোপ করা হয়, তবে তার সেবা মূল্য ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আসতে পারে।
রাজ্যগুলোর অংশগ্রহণের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল ফেডারেল স্তরে গৃহীত নীতিমালা শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় বাজারে গুগলের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যে অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, এবং এই আপিলে তাদের যুক্ত হওয়া বিষয়টি মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গুগল এই আপিলের মাধ্যমে তার বর্তমান ব্যবসায়িক মডেল বজায় রাখতে চায়, বিশেষ করে ক্রোমের ব্যবহারকারী ভিত্তি ও বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর নির্ভরশীলতা। যদি আদালত গুগলকে ক্রোম বিক্রি করতে বাধ্য করে, তবে তা কোম্পানির আয় ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বড় ধাক্কা হতে পারে।
অন্যদিকে, ডি.ও.জে এবং যুক্তরাজ্যের কিছু আইনগত বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে গুগলের একচেটিয়া অবস্থান কেবল মার্কিন বাজারেই নয়, গ্লোবাল ইন্টারনেট ইকোসিস্টেমেও প্রভাব ফেলছে। তাই শাস্তি বাড়ানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব হতে পারে।
এই মামলায় গুগলের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ভর করবে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর। যদি গুগলকে অতিরিক্ত শাস্তি আরোপ করা হয়, তবে কোম্পানি তার ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে পারে, যেমন নতুন পণ্য লঞ্চের গতি কমানো বা কিছু সেবা থেকে সরে যাওয়া।
অবশেষে, ডি.ও.জে ও রাজ্যগুলোর আপিলের ফলাফল প্রযুক্তি শিল্পের নিয়ন্ত্রক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে। গুগল এবং অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হতে পারে, যা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও বাজারের স্বচ্ছতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই আপিল প্রক্রিয়া এখনও চলমান, এবং উভয় পক্ষই আদালতের পরবর্তী শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। গুগল ও ডি.ও.জের মধ্যে এই আইনি লড়াই প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, সার্চ ইঞ্জিন ও ব্রাউজার বাজারে।



