মেলবোর্নের রোবি এলাকায় অবস্থিত ইন্ডিয়ান কমিউনিটি সেন্টারের সামনে গাঁধীর ভাস্কর্য চুরি হয়েছে। ভাস্কর্যটি মহাত্মা গান্ধীর ৪২৬ কেজি ওজনের একটি ব্রোঞ্জের কাজ, যা ২০২১ সালে দিল্লি ভিত্তিক ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। চুরিটি সোমবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘটেছে, এবং স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
ভাস্কর্যটি ৪২৬ কেজি ওজনের বিশাল ব্রোঞ্জের তৈরি, যা গাঁধীর জীবন্ত রূপকে চিত্রিত করে। এটি দিল্লি থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল এবং মেলবোর্নের ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের জন্য একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল। ভাস্কর্যটি স্থাপনের সময় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন উপস্থিত ছিলেন, যা তার গুরুত্বকে আরও তুলে ধরেছে।
চুরির সময় চোরেরা অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করে ভাস্কর্যের পা থেকে ধাতু কেটে নিল। এই সরঞ্জামটি দিয়ে তারা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ভাস্কর্যটি আলাদা করে নিয়ে যায়। চোরদের পরিচয় এখনো অজানা, তবে তাদের কাজের পদ্ধতি থেকে স্পষ্ট হয় যে তারা ধাতু কাটার কাজে পারদর্শী।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে। তারা স্থানীয় ব্যবসায়িকদের সতর্ক করে জানায় যে, যদি কেউ বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্রোঞ্জের কোনো অংশ নিয়ে আসে, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে। এই নির্দেশনা চুরির পর ধাতু বিক্রির সম্ভাবনা রোধের জন্য দেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়ান কমিউনিটি চ্যারিটেবল ট্রাস্টের কমিটি সদস্য সান্তোস কুমার জানান, চুরির ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরার আংশিক ফুটেজে ধরা পড়েছে। ফুটেজে সন্দেহভাজনদের কিছু অংশ দেখা যায়, যদিও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কুমার উল্লেখ করেন, ফুটেজটি পরদিনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অস্ট্রেলিয়া টুডে রিপোর্ট করেছে যে, চুরির পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রমাণ সংগ্রহে মনোযোগ দেয়। তদুপরি, তারা ব্রোঞ্জের ব্যবসায়িকদের সঙ্গে সমন্বয় করে চুরি করা ধাতু কোথায় বিক্রি হতে পারে তা অনুসন্ধান করছে।
ভাস্কর্যটি ২০২১ সালে মেলবোর্নে স্থাপিত হয় এবং তার প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একবার ভাঙচুরের শিকার হয়। সেই সময়েও কিছু ক্ষতি হয়, তবে তা দ্রুত মেরামত করা হয়। এই পূর্বের ঘটনা ভাস্কর্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
চুরির পর পুলিশ তদন্তকে ত্বরান্বিত করার জন্য অতিরিক্ত সিসিটিভি রেকর্ড সংগ্রহ করেছে এবং আশেপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। বর্তমানে চোরদের সনাক্তকরণে ফোকাস করা হয়েছে, এবং যে কোনো সূত্র দ্রুত অনুসন্ধান করা হবে।
অধিক তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে। একই সঙ্গে, ইন্ডিয়ান কমিউনিটি সেন্টার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
এই চুরি মামলায় তদন্ত চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও আপডেটের অপেক্ষা করা হচ্ছে। সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সম্পদের সুরক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে, বলে পুলিশ ও কমিউনিটি নেতারা আশ্বাস দিয়েছেন।



