যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলিকে প্রশাসনিক সমন পাঠাচ্ছে। এই সমনগুলো ব্যবহার করে গোপন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের মালিকদের লগইন সময়, ডিভাইসের ধরন এবং ইমেইল ঠিকানা ইত্যাদি চাওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য হল এমন ব্যবহারকারীদের সনাক্ত করা যারা স্থানীয় স্তরে আইসিই রেইডের ছবি শেয়ার করে অথবা ট্রাম্প কর্মকর্তাদের নিন্দা করে।
প্রশাসনিক সমন হল ফেডারেল সংস্থার স্বয়ংক্রিয়ভাবে জারি করা আদেশ, যা বিচারিক সমনের তুলনায় কোনো বিচারকের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না। বিচারিক সমন আদালতের অনুমোদন পেয়ে অপরাধের প্রমাণের ভিত্তিতে সম্পত্তি বা ডেটা জব্দের অনুমতি দেয়, আর প্রশাসনিক সমন সরাসরি সংস্থাকে ব্যবহারকারী সম্পর্কে মৌলিক তথ্য চাওয়ার সুযোগ দেয়। তবে এই সমনগুলো ইমেইল বিষয়বস্তু, অনলাইন অনুসন্ধান বা অবস্থান ডেটা সংগ্রহের অনুমতি দেয় না।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বিশেষ করে এমন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে লক্ষ্য করেছে যেগুলো অজ্ঞাত নামের অধীনে আইসিই রেইডের ছবি ও তথ্য প্রকাশ করে। এই অ্যাকাউন্টগুলো প্রায়শই স্থানীয় প্রতিবেশীর নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলে ধরে এবং অভিবাসী অধিকার রক্ষার জন্য তথ্য শেয়ার করে। সমনগুলোতে ব্যবহারকারীর লগইন সময়, ব্যবহৃত ডিভাইসের আইডি এবং রেজিস্ট্রেশন ইমেইল ঠিকানা চাওয়া হয়, যা অ্যাকাউন্টের মালিক সনাক্ত করতে সহায়তা করে।
এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা বা কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা করা ব্যক্তিদের নাম ও যোগাযোগের তথ্যও সমন মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বা সরকারি নীতি বিরোধী মত প্রকাশকারী নাগরিকদের তথ্য চাওয়া এই সমনগুলোর অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরনের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।
প্রশাসনিক সমন দ্বারা চাওয়া তথ্যের মধ্যে ব্যবহারকারীর লগইন সময়, লগইন অবস্থান, ব্যবহৃত ডিভাইসের ধরণ এবং রেজিস্ট্রেশন ইমেইল ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত। যদিও ইমেইল বিষয়বস্তু বা ব্যবহারকারীর অনলাইন অনুসন্ধানের রেকর্ড চাওয়া যায় না, তবু এই মৌলিক তথ্যগুলোই ব্যবহারকারীকে সনাক্ত করার মূল চাবিকাঠি। সংস্থাগুলোকে এই সমন মেনে চলা বাধ্যতামূলক নয়; তারা স্বেচ্ছায় তথ্য সরবরাহ করতে পারে অথবা অস্বীকার করতে পারে।
প্রশাসনিক সমন নিজেই নতুন নয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমালোচকদের তথ্য সংগ্রহে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা নিয়ে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণকারী গোষ্ঠী ও আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়ছে। সমনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জারি হওয়ায় বিচারিক তত্ত্বাবধানের অভাবের কারণে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সমালোচকরা উল্লেখ করছেন। এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
ব্লুমবার্গের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ একটি অজ্ঞাত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট @montocowatch-কে লক্ষ্য করে তার মালিকের পরিচয় জানতে চেয়েছে। এই অ্যাকাউন্টটি পেনসিলভানিয়ার মন্টগোমারি কাউন্টিতে অভিবাসী অধিকার ও আইনি সুরক্ষার তথ্য শেয়ার করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। সমনটি অ্যাকাউন্টের রেজিস্ট্রেশন ইমেইল এবং লগইন ডেটা চেয়েছে, যা ব্যবহারকারীকে প্রকাশের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
এই তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলমান ফেডারেল অভিবাসন দমন নীতির সঙ্গে সমন্বিত। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আইসিই রেইডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের উপর চাপ বাড়ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই পদক্ষেপগুলোকে সরকারী নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে একই সঙ্গে নাগরিক স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার ওপর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তীব্রতর হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই ধরনের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচকদের উপর নজরদারি বাড়িয়ে তাদের প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে। যদি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সমন মেনে না চলে, তবে বিভাগটি আদালতের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক সমন জারি করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়ার আইনি চ্যালেঞ্জ ও নীতিগত পরিবর্তন কী রকম হবে তা দেশের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।



