19 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনসাকারিন চলচ্চিত্রের সানডান্সে উদ্বোধন, দেহের চিত্র ও ভয়ংকরতা নিয়ে আলোচনা

সাকারিন চলচ্চিত্রের সানডান্সে উদ্বোধন, দেহের চিত্র ও ভয়ংকরতা নিয়ে আলোচনা

সানডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মেলবোর্নের মেডিকেল ছাত্র হানা (মিদোরি ফ্রান্সিস) অভিনীত ‘সাকারিন’ চলচ্চিত্রটি প্রথমবারের মতো স্ক্রিনে প্রকাশ পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান পরিচালক নাতালি এরিকা জেমসের এই কাজটি দেহের চিত্র, ওজন হ্রাসের অন্ধকার দিক এবং শারীরিক নিখুঁততার তাড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে। চলচ্চিত্রটি ১ ঘণ্টা ৫২ মিনিটের দৈর্ঘ্যের এবং IFC ও শাডার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। সানডান্স স্লটের অধীনে এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।

নাতালি এরিকা জেমস, যিনি পূর্বে ‘দ্য সাবস্ট্যান্স’ এবং রায়ান মারফির ‘দ্য বিউটি’ এর মতো শিরোনামের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, ‘সাকারিন’ এ নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করার চেষ্টা করেছেন। চলচ্চিত্রটি বৌদ্ধ ও তাওবাদী লোককথার ‘হাংরি গোস্ট’ ধারণা থেকে সূক্ষ্ম অনুপ্রেরণা নেয়, তবে আধ্যাত্মিক উপাদানের প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বর্ণনাকে মিশ্রিত করে। এই পদ্ধতি চলচ্চিত্রের বর্ণনায় কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি করেছে, তবে জেমসের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।

‘সাকারিন’ দেহের বিকৃতি, শারীরিক অপর্যাপ্ততা এবং সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে সৃষ্ট মানসিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে। আধুনিক সমাজে তরুণ ও সুদর্শন দেহের প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্বের ফলে উদ্ভূত আত্মসমালোচনা ও লজ্জা চলচ্চিত্রের মূল থিম। হানা নিজের ওজন কমাতে কঠোর ডায়েট ও ব্যায়াম পরিকল্পনা অনুসরণ করে, এবং তার অগ্রগতি একটি জার্নাল ও গ্রাফে রেকর্ড করে। এই প্রক্রিয়ায় তার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং আত্ম-পরীক্ষা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শৈলীর দিক থেকে চলচ্চিত্রটি থাই হররের পরিবেশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যদিও তীব্রতা ও ভয়ের মাত্রা ভিন্ন। থাই হররের গাঢ় ছায়া, অপ্রত্যাশিত সাউন্ড ডিজাইন এবং অদ্ভুত দৃশ্যাবলী ‘সাকারিন’ এ দেখা যায়, যা দর্শকের মধ্যে অস্বস্তি ও উত্তেজনা তৈরি করে। তবে জেমসের গল্প বলার পদ্ধতি কখনও কখনও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে, ফলে দর্শককে মূল বার্তা ধরতে কিছুটা সময় লাগে।

চলচ্চিত্রের প্রধান কাস্টে মিদোরি ফ্রান্সিস, ড্যানিয়েল ম্যাকডোনাল্ড, মাডেলিন মাডেন, রবার্ট টেলর, শোয়কো শোফুকুতে, এমিলি মিলেজ এবং জোসেফ বোল্ডউইন অন্তর্ভুক্ত। হানা চরিত্রে মিদোরি ফ্রান্সিসের পারফরম্যান্স চলচ্চিত্রের কেন্দ্রবিন্দু, যা দর্শককে তার মানসিক যাত্রায় টেনে নিয়ে যায়। ড্যানিয়েল ম্যাকডোনাল্ড এবং মাডেলিন মাডেনের পার্শ্ব চরিত্রগুলো গল্পের গতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।

হানা, মেলবোর্নের মেডিকেল ছাত্র, নিজের দেহের ওজন ৬০ কিলোগ্রাম (১৩২ পাউন্ড) পর্যন্ত নামাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি প্রতিদিনের খাবার, ব্যায়াম এবং শারীরিক পরিবর্তনগুলোকে জার্নালে লিখে রাখে এবং গ্রাফে চিত্রিত করে অগ্রগতি ট্র্যাক করে। তার অপ্রকাশিত আকর্ষণ জিমের প্রশিক্ষক আলানিয়া (মাডেলিন মাডেন) প্রতি, তার ওজন কমানোর প্রেরণায় অতিরিক্ত প্রভাব ফেলে। হানা নিজেকে তাত্ত্বিকভাবে কুইয়ার বলে বিবেচনা করে, তবে বাস্তবে তার সম্পর্কের অভিজ্ঞতা সীমিত।

চলচ্চিত্রে হানা আলানিয়ার সঙ্গে জিমে যোগ দেয়, যেখানে তার শারীরিক রূপান্তর এবং মানসিক অস্থিরতা একসঙ্গে প্রকাশ পায়। প্রশিক্ষকের আত্মবিশ্বাসী ও টোনড শারীরিক গঠন হানার জন্য এক ধরনের আদর্শ হয়ে ওঠে, যা তার ওজন হ্রাসের লক্ষ্যে অতিরিক্ত প্রেরণা যোগায়। তবে এই প্রক্রিয়ায় হানা নিজের দেহের প্রতি অবিরাম সমালোচনা এবং আত্ম-অবমূল্যায়নের সঙ্গে লড়াই করে, যা তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

‘সাকারিন’ এর বর্ণনায় বৌদ্ধ ‘হাংরি গোস্ট’ ধারণা থেকে প্রাপ্ত আত্মিক উপাদানগুলো সূক্ষ্মভাবে মিশ্রিত হয়েছে, যদিও তা পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। হানার অভ্যন্তরীণ ‘ভূখণ্ড’ তার শারীরিক ক্ষুধা এবং আত্মিক শূন্যতার সঙ্গে মিলে যায়, যা চলচ্চিত্রের ভয়ংকর পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে। তবে জেমসের এই আধ্যাত্মিক দিকের অর্ধেক অঙ্গীকার দর্শকের কাছে কিছুটা অস্পষ্টতা রেখে যায়।

বর্ণনায় কিছু বিশৃঙ্খলা থাকলেও মিদোরি ফ্রান্সিসের অভিনয় চলচ্চিত্রকে টিকিয়ে রাখে। তার সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি এবং শারীরিক ভাষা হানার মানসিক অবস্থা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে, যা দর্শকের সহানুভূতি জাগায়। যদিও গল্পের গতি কখনও কখনও বিচ্ছিন্ন মনে হয়, তবে ফ্রান্সিসের পারফরম্যান্স পুরো চলচ্চিত্রের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করে।

সারসংক্ষেপে, ‘সাকারিন’ দেহের চিত্র, ওজন হ্রাসের অন্ধকার দিক এবং শারীরিক নিখুঁততার তাড়া নিয়ে একটি অনন্য দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে। যদিও বর্ণনা কখনও কখনও বিশৃঙ্খল, তবে চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল স্টাইল, থাই হররের পরিবেশ এবং মিদোরি ফ্রান্সিসের শক্তিশালী অভিনয় এটিকে সানডান্সে উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে। দর্শকরা এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আধুনিক সমাজের দেহের প্রতি অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং তার মানসিক পরিণতি সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments