মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে শুটিং চলাকালীন সুরাজ পঞ্চোলি “কেসরি ভীর: লেজেন্ড অব সোমনাথ” ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার সময় পায়ের উরু ও হ্যামস্ট্রিংয়ে তীব্র পোড়া পেয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পরও শুটিং চালিয়ে গেছেন। এই ঘটনা ছবির গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্যের সময় ঘটেছে, যেখানে অভিনেতাকে নিজেরাই একটি ঝাঁপিয়ে পড়া স্টান্ট সম্পন্ন করতে বলা হয়েছিল।
“কেসরি ভীর” পঞ্চোলির প্রথম বায়োপিক হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে তিনি ঐতিহাসিক যোদ্ধা ভীর হামিরজি গোহিলের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। গোহিলের চরিত্রটি সোমনাথ মন্দিরের রক্ষায় লড়াই করা গোহিল পরিবারের একজন বীরের কাহিনী, যা প্রিন্স ধিমনের পরিচালনায় চিত্রায়িত হচ্ছে। পঞ্চোলির এই নতুন রূপ দর্শকদের কাছে পরিচিত হওয়া এবং তার অভিনয় পরিসর বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুটিংয়ের সময়, অ্যাকশন ডিরেক্টর পঞ্চোলিকে একটি ঝাঁপিয়ে পড়া স্টান্টে অংশ নিতে নির্দেশ দেন, যেখানে তাকে বিস্ফোরক ধোঁয়া ও অগ্নি পার হতে হয়। স্টান্টের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিস্ফোরণটি তার পায়ের ঠিক উপরে হওয়ার কথা ছিল, তবে সময়ের ত্রুটির কারণে গুঁড়ো গুলি তার পায়ের নিচে ফাটে। প্রচুর পরিমাণে গুনপাউডার ব্যবহারের ফলে বিস্ফোরণটি তীব্র তাপ উৎপন্ন করে, যা উরু ও হ্যামস্ট্রিংয়ে তীব্র পোড়া সৃষ্টি করে।
বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে শুটিং লোকেশনে উপস্থিত মেডিকেল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা প্রথমে শীতল প্যাক ও স্যালাইন দিয়ে পোড়া অংশ শীতল করে, তারপর ব্যান্ডেজ ও অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। কয়েক ঘণ্টা পর পঞ্চোলি শারীরিকভাবে স্বস্তি পেয়ে পুনরায় শুটিংয়ে ফিরে আসেন, যদিও তার পায়ে এখনও ব্যথা ও ফোলা রয়ে যায়।
চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পরেও পঞ্চোলি শুটিং বন্ধ না করে পুরো সময়সূচি সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, চরিত্রের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং ছবির সময়সীমা মানা তার জন্য অগ্রাধিকার। এই দৃঢ়তা তার সহকর্মী ও ক্রু সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক প্রেরণা সৃষ্টি করে এবং শুটিংয়ের গতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ছবিটি সোমনাথ মন্দিরে সংঘটিত ঐতিহাসিক যুদ্ধে ভিত্তিক, যেখানে গোহিল পরিবার ও অন্যান্য যোদ্ধা মন্দির রক্ষার জন্য শত্রুর সঙ্গে তীব্র লড়াই করে। প্রিন্স ধিমন ঐতিহাসিক নথি ও লোককথা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দৃশ্যপট তৈরি করেছেন, যাতে দর্শকরা ঐ সময়ের যুদ্ধের তীব্রতা ও বীরত্ব অনুভব করতে পারেন। ছবির দৃশ্যাবলি ঐতিহ্যবাহী পোশাক, অস্ত্র ও যুদ্ধের চিত্রায়ণে সমৃদ্ধ, যা দর্শকের জন্য একটি ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
সুনীল শেট্টি, বিকি ওবেরয় এবং অঙ্ক্ষা শর্মা এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শেট্টি মন্দিরের রক্ষায় সহায়তা করা চরিত্রে উপস্থিত, যেখানে ওবেরয় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে শত্রু বাহিনীর নেতা হিসেবে দেখা যাবে। অঙ্ক্ষা শর্মা প্রধান নারী চরিত্রে উপস্থিত, যার মাধ্যমে গল্পে মানবিক দিক ও আবেগের গভীরতা যোগ হয়েছে। এই কাস্টের সমন্বয় ছবির আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে এবং ভক্তদের মধ্যে প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।
ফিল্মের ট্রেলার ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা তীব্রভাবে চলছে। ভক্তরা পঞ্চোলির নতুন রূপ, ঐতিহাসিক কাহিনীর পুনর্নির্মাণ এবং সহকর্মী অভিনেতাদের পারফরম্যান্স নিয়ে উত্তেজনা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে পঞ্চোলির প্রথম বায়োপিক হওয়ায় তার অভিনয় শৈলী ও শারীরিক প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ দেখা যাচ্ছে।
এই ঘটনার পর প্রযোজনা দল নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করেছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্টান্টের সময় গুনপাউডারের পরিমাণ ও বিস্ফোরণের সময় নিয়ন্ত্রণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে দল জানিয়েছে।
শিল্পের কঠোর শর্তের মধ্যে অভিনেতারা শারীরিক ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে অনুসরণ করা অপরিহার্য। পঞ্চোলির এই অভিজ্ঞতা শিল্পে নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে স্টান্টের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে পেশাদারিত্বের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোরদার হবে।
শুটিং এখনো চলমান, এবং পঞ্চোলি ও তার সহকর্মীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ছবির মুক্তি তারিখ এখনও ঘোষিত হয়নি, তবে প্রযোজনা দল দর্শকদের জন্য একটি উচ্চমানের ঐতিহাসিক অ্যাকশন চলচ্চিত্র উপস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে ছবির প্রিমিয়ার ও প্রচারমূলক ইভেন্টের মাধ্যমে আরও তথ্য জানানো হবে।



