স্ক্রিনরাইটার দারাব ফারুকি ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে টুইটারে বলিউডের স্ক্রিনরাইটারদের বেতন পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি এটিকে অন্যায় ও শোষণমূলক বলে উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান ব্যবস্থা লেখকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না এবং শিল্পের সামগ্রিক গুণগত মানকে প্রভাবিত করে।
ফারুকি তার পোস্টে বলিউডের চুক্তি প্রক্রিয়ার মূল ধাপগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় লেখককে মোট বেতনের প্রায় দশ শতাংশই প্রদান করা হয়, এরপর পুরো স্ক্রিপ্ট লিখতে হয়। স্ক্রিপ্ট অনুমোদনের পর অতিরিক্ত দশ থেকে বিশ শতাংশ আরোপিত হয়, আর বাকি অর্থ শুধুমাত্র প্রকল্পটি অভিনেতার স্বাক্ষরের পর অনুমোদিত হলে প্রদান করা হয়।
এই ধাপগুলো লেখকদের আর্থিকভাবে দুর্বল অবস্থায় ফেলে দেয়, কারণ অনেক প্রকল্প দেরি বা বাতিল হয়ে যায়। যখন কোনো চলচ্চিত্রের উৎপাদন স্থগিত হয়, তখন লেখকরা তাদের বাকি বেতন পেতে অপেক্ষা করতে হয়, যা প্রায়শই অনিশ্চিত থাকে। ফলে তাদের জীবিকা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
ফারুকি বলেন, এই শোষণমূলক পদ্ধতি সরাসরি চলচ্চিত্রের গুণগত মানের হ্রাসের কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, যখন লেখকরা যথাযথ পারিশ্রমিক পান না, তখন তাদের সৃজনশীলতা ও কাজের মান কমে যায়, যা শেষ পর্যন্ত দর্শকের কাছে নিম্নমানের চলচ্চিত্র হিসেবে প্রকাশ পায়।
কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে এই ধরনের শোষণ শিল্পের নতুন মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে, তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তি দেন, মহামারির সময়ে উৎপাদন খরচ বাড়ার ফলে লেখকদের বেতন কাঠামো আরও কঠোর হয়ে উঠেছে, যা তাদের আর্থিক চাপকে বাড়িয়ে তুলেছে।
ফারুকি টুইটে জোর দিয়ে বলেন, শিল্পের সকল অংশীদারকে লেখকদের সমস্যার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে, নতুবা শিল্পের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি শিল্পের অভ্যন্তরে কোনো পরিবর্তন না আসে, তবে দর্শকরা নিম্নমানের চলচ্চিত্রের শিকার হবে।
এই পোস্টটি প্রকাশের পর বলিউডের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও স্বতন্ত্র লেখক সমিতি থেকে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই ফারুকির মন্তব্যকে স্বীকৃতি দিয়ে স্ক্রিনরাইটারদের আর্থিক সুরক্ষা ও সময়মত বেতন প্রদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ফারুকি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে স্ক্রিনরাইটাররা বলিউডে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রাথমিক বেতন ছাড়া বাকি অর্থের অনিশ্চয়তা তাদের কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত করে।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য শিল্পের নীতি নির্ধারক, প্রযোজক ও স্টুডিওকে একত্রে কাজ করতে হবে, যাতে লেখকদের জন্য স্পষ্ট ও ন্যায়সঙ্গত বেতন কাঠামো গড়ে তোলা যায়। ফারুকি বিশ্বাস করেন, সঠিক পারিশ্রমিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলে চলচ্চিত্রের গুণগত মানও স্বাভাবিকভাবে উন্নত হবে।
শেষে তিনি পাঠকদের আহ্বান জানান, শিল্পের সুষ্ঠু উন্নয়নের জন্য লেখকদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি শিল্পের মূল স্রষ্টা—লেখক—কে সুরক্ষিত না করা হয়, তবে শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকবে।



