ইংল্যান্ডের টি‑২০ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সিরিজে প্যালেকেলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১২ রান পার্থক্যে পরাজিত করে ৩-০ স্বচ্ছ জয় অর্জন করেছে। টিউসডে, ইংল্যান্ড ১২৮ রান নয়-ওয়াইকে তৈরি করে, আর শ্রীলঙ্কা ১১৬ রানে আটকে যায়। এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের পূর্বে দুই দেশের শেষ গরম‑আপ ম্যাচ হিসেবে খেলা হয়।
ইংল্যান্ডের বাম‑হাতি স্পিনার জ্যাকব বেটহেল ১৮তম ওভারে শ্রীলঙ্কার শেষ চারটি উইকেট নেয়, যা ম্যাচের গতি সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয়। শ্রীলঙ্কা ২১ রান দরকার ছিল ১৮ বলের মধ্যে, চারটি উইকেট হাতে, কিন্তু বেটহেলের চমকপ্রদ ওভার তাদের ১১৬ রানে আটকে দেয়। বেটহেল শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের জন্য মাত্র ১১ রান দিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স দেখায়।
ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন হ্যারি ব্রুক ম্যাচটি “অত্যন্ত মজার” বলে প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন যে দলটি কঠিন পিচে ১৬ ওভার স্পিন দিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। তিনি আরও বলেন, শ্রীলঙ্কার ঘরে ঘরে স্পিনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দলটি সন্তুষ্টি পেয়েছে।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং দিক থেকে ১২৮/৯ স্কোর তুলনামূলকভাবে কম হলেও, দলটি গভীরতা ও কৌশল দেখিয়ে সেই স্কোর রক্ষা করতে সক্ষম হয়। শ্রীলঙ্কার দ্রুত বলার পর মাত্র চার ওভারে স্পিনাররা দখল নেয় এবং শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
বেটহেলের পাশাপাশি উইল জ্যাক্স তিনটি উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি অধিন রশিদ ও লিয়াম ডসন প্রত্যেকজন এক করে উইকেট নেয়, যা শ্রীলঙ্কার স্কোরকে দ্রুত কমিয়ে দেয়।
ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কার্রান, যিনি প্রথম ম্যাচে হ্যাট‑ট্রিক নিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন, এই ম্যাচে ৪৮ বলে ৫৮ রান করে দলকে ৬০/৬ থেকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তার এই পারফরম্যান্স ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর হিসেবে রেকর্ড হয়।
শ্রীলঙ্কা দলটি স্পিনের বিরুদ্ধে দুর্বলতা প্রকাশ করে, যা তাদের টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ইংল্যান্ডের স্পিনারদের ধারাবাহিক সফলতা, বিশেষ করে কোলোতে সাম্প্রতিক ওডিআই সিরিজে, তাদের ট্যাকটিক্যাল সুবিধা নির্দেশ করে।
ম্যাচের শেষে ইংল্যান্ডের দলটি ভারতীয় মাটিতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুত হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা দলটি এখন তাদের স্পিন মোকাবিলার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
এই সিরিজের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় তাদের বিশ্বকাপের জন্য শক্তিশালী সূচনা তৈরি করেছে, আর শ্রীলঙ্কা এখন টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের দুর্বলতা দূর করার জন্য সময় ব্যবহার করবে।
শ্রীলঙ্কা দলের দ্রুত বোলার দুশমন্তা চামেরা পুনরায় মাঠে ফিরে আসেন, তবে তার উপস্থিতি এই ম্যাচে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। ইংল্যান্ডের স্পিনারদের আধিপত্যই শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণ করে।
ইংল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচটি ভারতীয় মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী গেমের জন্য প্রস্তুতি নেবে। শ্রীলঙ্কা দলটি পরবর্তী প্রস্তুতি সেশনে স্পিনের বিরুদ্ধে কৌশল উন্নত করার দিকে মনোযোগ দেবে।



