20 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনোয়াম চোমস্কি জেফ্রি এপস্টেইনের প্রেস সমালোচনা নিয়ে ইমেইল বিনিময় প্রকাশ

নোয়াম চোমস্কি জেফ্রি এপস্টেইনের প্রেস সমালোচনা নিয়ে ইমেইল বিনিময় প্রকাশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক দস্তাবেজের নতুন প্রকাশে জানা যায় যে, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নোয়াম চোমস্কি জেফ্রি এপস্টেইনের ইমেইল অনুরোধের জবাবে প্রেসের প্রতি তার কঠোর সমালোচনা ও মিডিয়া থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। এপস্টেইন তখনো গ্রেফতারের আগে ছিলেন এবং চোমস্কি তার “দূষিত” মিডিয়া কভারেজকে “ভয়ানক” বলে উল্লেখ করেন।

ইমেইলে চোমস্কি বলেন, এপস্টেইনকে “পাখির মতো” মিডিয়া আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে তাকে নীরব থাকা উচিত এবং কোনো জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া না দেওয়া দরকার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে নারীর প্রতি নির্যাতনের হাইস্টেরিয়া এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কোনো প্রশ্নই গুরুতর অপরাধের সমতুল্য হয়ে দাঁড়ায়।

চোমস্কি ৯৭ বছর বয়সী হলেও এই বার্তায় তিনি মিডিয়ার “শিকারী”দের সতর্ক করেন, যারা কোনো বিষয়ের ওপর জনমত গড়তে চায় এবং তা থেকে নিজের স্বার্থ রক্ষা করে। তিনি এপস্টেইনকে পরামর্শ দেন, “যদি তুমি নীরব থাকো, তবে মিডিয়া তোমার ওপর আক্রমণ চালাতে পারবে না।”

এই ইমেইল বিনিময়টি প্রকাশের কয়েক মাস পরে, জুলাই ২০১৯-এ এপস্টেইনকে শিশু যৌন পাচার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং আগস্টে নিউ ইয়র্কের জেলখানায় তার অচেনা মৃত্যুর খবর আসে। তার মৃত্যুর পরেও এপস্টেইনের সঙ্গে চোমস্কির সম্পর্কের কিছু দিক প্রকাশিত হয়।

পূর্বে প্রকাশিত উপকরণে দেখা যায়, ২০০৮ সালে এপস্টেইন নাবালিকাকে যৌন সেবার জন্য প্রলুব্ধ করার দোষে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও চোমস্কি তার সঙ্গে সামাজিক সংযোগ বজায় রেখেছিলেন। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা প্রকাশ করা একটি ফটোতে চোমস্কি এপস্টেইনের পাশে বিমানে বসে থাকা দেখা যায়।

চোমস্কি ২০২৩ সালে হার্ভার্ড ক্রিমসনে এক সাক্ষাৎকারে এ সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করেন, তিনি বলেন এপস্টেইন দোষ স্বীকার করে শাস্তি পেয়েছেন এবং সমাজে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন, যা তখনকার সামাজিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই মন্তব্যটি তার পূর্বের সমর্থনকে পুনরায় জোরদার করে।

নতুন প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে চোমস্কির সামাজিক নেটওয়ার্কের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়। একটি ইমেইলে চোমস্কির স্ত্রী ভ্যালেরিয়া ২০১৯ সালে স্টিভ ব্যাননকে লিখে জানান, “জেফ্রি খুবই প্রিয় বন্ধু, এবং আমরা তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অপেক্ষায় আছি।” ব্যানন পূর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তার সংযোগের ইঙ্গিত দেয়।

এই তথ্যগুলো মার্কিন সরকারের দস্তাবেজ থেকে বেরিয়ে এসেছে, যা এপস্টেইন এবং তার সহায়কদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সম্ভাব্য সমন্বয় সম্পর্কে তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়। দস্তাবেজগুলোতে চোমস্কির এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের সময়সীমা, বিষয়বস্তু এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিকল্পিত সাক্ষাতের উল্লেখ রয়েছে।

এপস্টেইনের মৃত্যুর পরেও তার নেটওয়ার্কের তদন্ত চালু রয়েছে এবং মার্কিন সরকার এই দস্তাবেজগুলোকে জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। চোমস্কি এবং ব্যাননের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিশদ প্রকাশে আইনগত বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

সারসংক্ষেপে, চোমস্কি এবং এপস্টেইনের ইমেইল বিনিময় প্রকাশের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে, এক সময়ের বিশিষ্ট বৌদ্ধিক ব্যক্তিরা মিডিয়া সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত সংযোগের মাধ্যমে এক অপরাধীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। এই প্রকাশনা এপস্টেইনের অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের বিস্তৃত তদন্তের নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য আইনি ও নৈতিক দায়িত্বের পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments