ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো রাশিয়ার ফুটবলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে ফিফা ও উয়েফা রাশিয়ার সব স্তরের ফুটবলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইনফান্তিনো এই নিষেধাজ্ঞা কোনো ফল দেয়নি, বরং পারস্পরিক ঘৃণা বাড়িয়ে দিয়েছে, এটাই তার যুক্তি। ইউক্রেনের ক্রীড়ামন্ত্রী মাতভি বিদনি ইনফান্তিনোর মন্তব্যকে দায়িত্বহীন ও শিশুসুলভ বলে তীব্রভাবে নিন্দা করেছেন।
ইনফান্তিনো স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, রাশিয়ার ফুটবলকে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া উচিত। তিনি যুক্তি দেন, রাশিয়ার তরুণ খেলোয়াড়দের ইউরোপের অন্যান্য দেশে ফুটবল খেলার সুযোগ দিলে হয়তো তাদের মনোভাব পরিবর্তিত হতে পারে। তাছাড়া, কোনো দেশের রাজনৈতিক নেতার কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো জাতিকে ফুটবল থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়, তিনি বলেন।
ইনফান্তিনোর এই বক্তব্যের পর ইউক্রেনের ক্রীড়ামন্ত্রী মাতভি বিদনি তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া যখনই আক্রমণ চালায়, তখনই ইউক্রেনের ক্রীড়া জগতে বড় ক্ষতি হয়। রাশিয়া যখন থেকে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরু করেছে, তখন থেকে ৬৫০ ইউক্রেনীয় অ্যাথলেট-প্রশিক্ষক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১০০ এরও বেশি ফুটবলার অন্তর্ভুক্ত।
বিদনি আরও বলেন, রাশিয়ার আক্রমণের ফলে সরাসরি ক্রীড়া ক্ষেত্রেও প্রাণহানি ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইলিয়া পেরেজোগিন, মারিয়ুপোলের ১০ম গ্রেডের একটি স্কুলের ছাত্র, যখন স্কুলের স্টেডিয়ামে খেলছিল, তখন রাশিয়ান মিসাইল আঘাত করে তাকে হত্যা করে। একইভাবে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর কিয়েভে ভিক্টোরিয়া কোতলিয়ারোভা এবং তার মা শেলের আঘাতে প্রাণ হারিয়ে ফেলেছেন। এই ঘটনাগুলোকে তিনি যুদ্ধের অপরাধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মাতভি বিদনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়া ক্রীড়াকে রাজনৈতিক সরঞ্জাম করে নিজের আগ্রাসনকে বৈধতা দিচ্ছে। তিনি ইউক্রেন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, রাশিয়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফিরে আসা সম্পূর্ণভাবে বিরোধী। যতক্ষণ না ক্রীড়া রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা বন্ধ হয়, ততক্ষণ রাশিয়ার জাতীয় পতাকা বা প্রতীক প্রদর্শন ন্যায়বিচার ও সততার অবমূল্যায়ন হিসেবে গণ্য হবে।
এই বিতর্কের পটভূমিতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে উয়েফার সভাপতি আলেকজান্ডার শেভচেনকোর মন্তব্য রয়েছে। শেভচেনকো রাশিয়ার পুনর্বহাল সম্ভব হতে হলে ইউক্রেনে যুদ্ধ থামাতে হবে, এ কথা উল্লেখ করেন। তদুপরি, ২০২২ সালে ফিফা ও উয়েফা রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ফলে রাশিয়ার পুরুষ দল সেই বছরের বিশ্বকাপ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ে।
ইনফান্তিনোর পুনর্বিবেচনা রাশিয়ার ফুটবলের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসার সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে, তবে ইউক্রেনের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় অবস্থান এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। রাশিয়ার ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত, এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ক্রীড়া জগতের অন্যান্য দেশ এবং সংস্থাগুলোও রাশিয়ার পুনরায় অংশগ্রহণের প্রশ্নে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছে। রাশিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ক্রীড়া নীতিমালার মধ্যে সীমানা কোথায়, তা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারক হবে।



