সনি পিকচারস ক্লাসিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা টম বার্নার্ড ১৯৮১ সালের জুলাই মাসে রবার্ট রেডফোর্ডের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত একটি গোপন সভার স্মৃতি তাজা করে বলছেন, যেখানে স্বাধীন চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। রেডফোর্ড শিল্পের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একত্রে বেঁধে একটি দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে চেয়েছিলেন, এবং সেই সন্ধ্যায় উপস্থিত সবাই এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গভীর আলোচনা করেন।
সেই সমাবেশে চলচ্চিত্র সমালোচক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং বিনিয়োগকারীসহ বহু পরিচিত নাম একত্রিত হয়েছিল। রেডফোর্ডের লক্ষ্য ছিল স্বাধীন চলচ্চিত্রের জন্য একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা, যাতে সৃজনশীল স্বতন্ত্রতা বজায় থাকে এবং আর্থিক সহায়তা সহজলভ্য হয়। অংশগ্রহণকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা ভাগ করে নেয়, যা পরবর্তীতে স্যান্ড্যান্স ইনস্টিটিউটের মূল নীতি গঠনে ভূমিকা রাখে।
সেই সময়ের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সমালোচক রজার ইবার্টও উপস্থিত ছিলেন; তিনি এমন এক মুহূর্তে এতটাই মুগ্ধ হন যে তিনি তা লিখে প্রকাশ করতে অক্ষম বোধ করেন। তার এই অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া সভার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল।
রেডফোর্ড তখনই একটি স্ক্রিপ্ট আহ্বান চালু করেন, যেখানে তিনি শতাধিক চিত্রনাট্য গ্রহণের ঘোষণা দেন। প্রাপ্ত স্ক্রিপ্টের মধ্যে থেকে দশটি নির্বাচিত হয় এবং গ্রীষ্মের একটি কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল নবীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা, যাতে তারা স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে পারে।
সেই গ্রীষ্মে রেডফোর্ডের পরিকল্পনা ছিল লস এঞ্জেলেসের বন্ধুদেরকে স্যান্ড্যান্সে আমন্ত্রণ জানিয়ে, নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে মিলিয়ে কাজের পদ্ধতি শেখানো। তিনি নিজেই একটি ছোট ক্যাম্পাসের মতো পরিবেশ তৈরি করেন, যেখানে সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা একসাথে বিকশিত হতে পারে। এই ধারণা পরবর্তীতে স্যান্ড্যান্সের বহু কর্মশালার ভিত্তি হয়ে ওঠে।
বার্নার্ড, যিনি তখন ইউনাইটেড আর্টিস্টস ক্লাসিক্সে কাজ করছিলেন, তাকে বিতরণ সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি এই সুযোগে নতুন চলচ্চিত্রের বাজারজাতকরণ কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা ভাগ করেন।
প্রথমবারের মতো স্যান্ড্যান্সের ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর দিনটি বার্নার্ডের মতে “অত্যন্ত উন্মাদ” ছিল। সেখানে সিডনি পোলাক, যিনি তখনই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করছিলেন, পরিচালনা শিখিয়ে দিচ্ছিলেন, আর লাসলো কোভাক্স চিত্রগ্রহণের কৌশল ব্যাখ্যা করছিলেন। এই অনন্য মিশ্রণটি নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একধরনের স্বপ্নের কর্মশালা হয়ে দাঁড়ায়।
সিডনি পোলাকের পরিচালনা ক্লাসে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব সময়ে দৃশ্য নির্মাণের পদ্ধতি শিখতে পারছিলেন, যা তাদের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করতে সহায়তা করেছিল। পোলাকের সরল ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নবীন পরিচালকদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
লাসলো কোভাক্সের চিত্রগ্রহণ সেশনেও একই রকম উজ্জ্বলতা দেখা যায়; তিনি আলো, ছায়া এবং ক্যামেরার কোণ নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করেন। কোভাক্সের হাতে কলমে নির্দেশনা নতুন চিত্রনাট্যকারদের ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ে দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।
সেই সময়ের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি ছিলেন ‘দ্য লাস্ট ওয়াল্টজ’ প্রযোজক জোনাথন ট্যাপলিন, যিনি চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া চিচ মারিনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যা সমাবেশকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছিল। এই সমন্বয়টি শিল্পের বিভিন্ন শাখার মানুষের মধ্যে সেতু গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রেডফোর্ড স্যান্ড্যান্সে বেশ কিছু কন্ডো নির্মাণ করে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা একসাথে বাস করতে পারতেন। এই কন্ডোগুলোতে রাতের খাবার, আলো-সঙ্গীত এবং অনান্য সামাজিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা ছিল, যা সমাবেশের বন্ধনকে দৃঢ় করেছিল।
প্রতিটি সন্ধ্যায় স্ক্রিনরাইটার ওয়াল্ডো সল্ট, যিনি ‘মিডনাইট কাউবয়’ এবং ‘ডে অব দ্য লকাস্ট’ এর লেখক, বার্নার্ডকে তার ভল্কসওয়াগেন বাগে বিভিন্ন কন্ডোতে নিয়ে যেতেন। সল্টের সঙ্গে একটি ছোট স্যুটকেসে গাঁজা ছিল, যা সন্ধ্যায় হালকা মেজাজে পরিবেশকে প্রভাবিত করত। এই অপ্রত্যাশিত মুহূর্তগুলো স্যান্ড্যান্সের প্রথম দিনগুলোকে স্মরণীয় করে তুলেছিল।
সামগ্রিকভাবে, সেই প্রথম গ্রীষ্মের কর্মশালা শিল্পের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একত্রে এনে একটি উন্মুক্ত ও সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি করেছিল। এই অভিজ্ঞতা স্যান্ড্যান্সকে স্বাধীন চলচ্চিত্রের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে।
বার্নার্ডের মতে, স্যান্ড্যান্সের প্রাথমিক দিনগুলোতে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব ও শেয়ার করা জ্ঞান আজকের চলচ্চিত্র জগতে এখনও প্রভাব ফেলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতেও এমন সমাবেশের মাধ্যমে নতুন কণ্ঠস্বর উন্মোচিত হবে এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।



