শেরপুর উপজেলায় মঙ্গলবার দুপুরের কাছাকাছি সময়ে একটি বাড়িতে মোবাইল ফোন চার্জের সময় বিস্ফোরণ ঘটায় অগ্নিকাণ্ড। ঘটনাস্থল ছিল শেরপুরের টাউন কলোনি মহল্লা, যেখানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারী এস এম খোকনের বসতবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। কোনো বাসিন্দা উপস্থিত না থাকায় কোনো প্রাণহানি বা আঘাতের রিপোর্ট নেই।
এস এম খোকন, শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান, দুপুরের খাবারের সময় নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চার্জে রাখে। হঠাৎ করে তীব্র শব্দের সঙ্গে একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে কাছের কাপড় থেকে শিখা ছড়িয়ে পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাকালে বাড়িতে কেউ না থাকলেও শিখা দ্রুত বাড়ির কাঠামোকে গ্রাস করে।
বিগত ঘটনার খবর শেরপুর ফায়ার সার্ভিসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শেরপুরের দুইটি ইউনিট এবং বগুড়া সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা সময় ধরে অগ্নি নিভানোর কাজ চালিয়ে শেষ পর্যন্ত শিখা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পানি ও ফোম ব্যবহার করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যের গৃহস্থালী সামগ্রী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এতে সাত ভরি স্বর্ণালংকার, টেলিভিশন, ফ্রিজ এবং অন্যান্য আসবাবপত্র অন্তর্ভুক্ত, যার মোট ক্ষয়ক্ষতি প্রায় তিন লক্ষ পঞ্চানব্বই হাজার টাকা হিসেবে অনুমান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখন সম্পূর্ণভাবে পুনর্নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা খুঁজছে।
প্রতিবেশীরা শিখা দেখতে পেয়ে প্রথমে দূর থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে বিদ্যুৎ সংযোগের সম্ভাব্য শর্ট সার্কিটের ভয়ে কেউ বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে সাহস পায়নি। আশেপাশের লোকজনের সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপ অগ্নিকাণ্ডের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের মূল কারণ সম্ভবত মোবাইল ফোনের ব্যাটারির অতিরিক্ত গরম হয়ে শর্ট সার্কিটের ফলে ঘটেছে। চার্জার বা ব্যাটারির ত্রুটির সম্ভাবনা বিবেচনা করে তারা অতিরিক্ত পরীক্ষা চালিয়ে যাবে।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিসের রিপোর্টের সঙ্গে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আইনি দায়িত্বের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে কোনো অপরাধমূলক দায়ের অভিযোগ তোলা হয়নি, তবে তদন্ত চলাকালীন প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ সংস্থা বাসিন্দাদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জের সময় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে পুরনো চার্জার, অননুমোদিত ব্যাটারি এবং অপ্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত ডিভাইস চার্জে রাখার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় যে গৃহস্থালী বিদ্যুৎ ব্যবহার ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের নিরাপত্তা বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধের জন্য নিয়মিতভাবে চার্জার ও ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা করা এবং অপ্রয়োজনীয় সময়ে ডিভাইস প্লাগ আউট রাখা উচিত। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।



