বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) দুটোরই নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। উভয় পদে অতিরিক্ত সচিবদের নিয়োগের মাধ্যমে সরকার জ্বালানি সেক্টরের শীর্ষে একসাথে পরিবর্তন এনেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই আদেশগুলো জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। ফলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের ক্ষমতা গ্রহণের সময়সীমা সংক্ষিপ্ত এবং কোনো বিলম্ব ছাড়াই কার্যক্রম চালু হবে।
পেট্রোবাংলার নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. এরফানুল হককে নির্ধারিত করা হয়েছে। তিনি পূর্বে একই বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছিলেন এবং জ্বালানি নীতি প্রণয়ন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিপিসির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সচিব মো. রেজানুর রহমানকে নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। রেজানুর রহমানের পূর্ববর্তী দায়িত্বে তেল ও গ্যাস শিল্পের নিয়ন্ত্রক দিকের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা তাকে এই পদে উপযুক্ত করে তুলেছে।
এই দুই নিয়োগের পূর্বে, ২৯ জানুয়ারি রাতে বিপিসির পূর্বতন চেয়ারম্যান আমিন উল আহসানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আদেশে অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল আলমকে একই সময়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে বিপিসি-র চেয়ারম্যান করা হয়। তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন আদেশে রেজানুর রহমানকে চূড়ান্তভাবে এই পদে স্থাপন করা হয়।
সরকারের এই দ্রুত পরিবর্তন শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। দুইটি প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে একই বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়োগ নীতি সমন্বিত নীতি বাস্তবায়নকে সহজতর করবে।
বিপিসি ও পেট্রোবাংলা উভয়ই দেশের তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান, উৎপাদন ও বিক্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব গ্রহণের ফলে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও শেলফ গ্যাসের বিকাশে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, শীর্ষে পরিবর্তন সাধারণত বিনিয়োগকারীর মনোভাবকে প্রভাবিত করে। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে নীতি ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকলে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগের প্রবাহ স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে, যদি নেতৃত্বের পরিবর্তন দ্রুত নীতি পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়, তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, পেট্রোবাংলা ও বিপিসি উভয়েরই আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী, তবে দক্ষতা বৃদ্ধি ও খরচ হ্রাসের জন্য কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। নতুন চেয়ারম্যানদের অভিজ্ঞতা এই সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে পারে, বিশেষ করে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও রিফাইনিং ক্ষমতা বাড়াতে।
শক্তি নিরাপত্তা ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নির্ধারণে এই দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কাজের ওপর নির্ভরশীল। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের নেতৃত্বে জ্বালানি নীতি ও মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা বাড়তে পারে, যা ভোক্তাদের জন্য উপকারী হবে।
তবে, শীর্ষে একসাথে পরিবর্তন আনা মানে প্রশাসনিক সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে তথ্য শেয়ারিং ও যৌথ পরিকল্পনা প্রয়োজন, যা নতুন কর্মকর্তাদের ত্বরান্বিতভাবে গঠন করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, পেট্রোবাংলা ও বিপিসির নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ জ্বালানি খাতের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করে। শীর্ষে অভিজ্ঞ অতিরিক্ত সচিবদের উপস্থিতি নীতি ধারাবাহিকতা, কার্যকরী দক্ষতা ও বাজারের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তনগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



