মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেন। তিনি ময়মনসিংহ সেক্টর সদর দপ্তর এবং শেরপুর ও ফেনির নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদারিত্বের দাবি জানান।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মহাপরিচালক আজ ময়মনসিংহ সেক্টর সদর দপ্তর এবং শেরপুর ও ফেনির নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে পারা নিশ্চিত করা জরুরি, এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবিকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ময়মনসিংহে তার পরিদর্শনের সময় মহাপরিচালক সকল স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং তদবিরের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই আলোচনার মাধ্যমে মাঠে কাজ করা জওয়ানদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরবর্তী পর্যায়ে মহাপরিচালক শেরপুরের ঝিনাইগাতী বেইজ ক্যাম্পে গিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। এখানে তিনি নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য হুমকি, তথ্য শেয়ারিং প্রক্রিয়া এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা নিয়ে গভীর আলোচনা করেন।
ফেনিতে পৌঁছে তিনি চাগলনাইয়া বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। একই দিনে ফেনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা এবং বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচনের পূর্ব, চলমান এবং পরবর্তী সময়ে যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধে জওয়ানদের সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা জোর দিয়ে বলা হয়।
মহাপরিচালক জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি জওয়ানদের সতর্কতা বজায় রাখতে, প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার করতে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
এই নির্দেশনা বাংলাদেশ সরকারের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ, যা নির্বাচনের আগে থেকে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে। পূর্বে সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করেছে, এবং আজকের নির্দেশনা সেই ধারাকে অব্যাহত রাখে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে নির্বাচনের সময়ে ভোটারদের নিরাপত্তা, ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। মহাপরিচালকের এই নির্দেশনা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচন মৌসুমের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল সংস্থার সমন্বিত প্রস্তুতি বাড়ছে, এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে মাঠে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করে একটি শান্তিপূর্ণ ও নির্ভয়ে ভোটদান নিশ্চিত করতে হবে।



