সৌদি প্রো লিগের সোমবারের ম্যাচে আল-নাসর ও আল-হিলালের মুখোমুখি হওয়া গেমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো উপস্থিত ছিলেন না। লিগের মুখ্য তারকা তার দলের সঙ্গে মাঠে না গিয়ে সম্ভবত স্ট্রাইকে আছেন বলে জানা যায়। তার অনুপস্থিতি ক্লাবের ট্রান্সফার নীতি ও কারিম বেনজেমার চলে যাওয়া নিয়ে অসন্তোষের সঙ্গে যুক্ত। এই পরিস্থিতি শিরোপা লড়াইয়ের গতি পরিবর্তন করতে পারে।
ম্যাচের ফলাফল দেখায় আল-নাসর সাদিও মানের একমাত্র গোলের মাধ্যমে জয়লাভ করেছে, ফলে তারা দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান বজায় রেখেছে। একই সময়ে শীর্ষস্থানের আল-হিলাল ও তৃতীয় স্থানীয় আল-আহলি ড্রের মাধ্যমে পয়েন্ট ভাগ করে নেয়। এই ফলাফলগুলো শিরোপা শীর্ষে চারটি দলকে মাত্র এক পয়েন্টের পার্থক্যে রাখে, যেখানে সিজনের এক তৃতীয়াংশ বাকি।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যিনি ২০২২ সালের শেষ দিনে আল-নাসরে যোগদান করেন, এখন পর্যন্ত সৌদিতে কোনো বড় ট্রফি জিততে পারেননি। তার দৈনিক বেতন প্রায় £৪৯০,০০০ হলেও, তিনি ক্লাবের বর্তমান ট্রান্সফার উইন্ডোতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং প্রস্থানের কথা ভাবছেন। তার অনুপস্থিতি দলীয় পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনই স্পষ্ট নয়।
আল-নাসর পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মালিকানাধীন, যা একই সঙ্গে আল-হিলাল, আল-ইত্তিহাদ এবং আল-আহলির মতো ‘বিগ ফোর’ ক্লাবগুলিকেও সমর্থন করে। এই ফান্ডের অধীনে ক্লাবগুলো আর্থিকভাবে শক্তিশালী হলেও, ট্রান্সফার নীতি নিয়ে খেলোয়াড়দের মতামত ভিন্ন হতে পারে। রোনালদোর মত উচ্চপ্রোফাইল খেলোয়াড়ের অসন্তোষ লিগের সামগ্রিক চিত্রকে প্রভাবিত করতে পারে।
আল-হিলাল ২০২৪ শিরোপা জিতেছে জর্জে জেসুসের তত্ত্বাবধানে, তবে মাঝ-সিজনের রিক্রুটমেন্ট প্রত্যাশা পূরণ করেনি। একমাত্র নতুন সংযোজন হল ইরাকি মিডফিল্ডার হায়দীর আবদুলকরেরিম, আর ডিফেন্সে রেনেস থেকে মোহাম্মদ মেইতে যোগদান করেছে। এই সাইনিংগুলো দলকে কিছুটা শক্তিশালী করেছে, তবে সামগ্রিকভাবে নতুন খেলোয়াড়ের সংখ্যা সীমিত রয়ে গেছে।
ব্রেনডান রডার্সের আল-কাদসিয়ার ম্যাচ এখনও বাকি, যদি তিনি জয়লাভ করেন তবে শীর্ষ চারটি দল চার পয়েন্টের পার্থক্যে থাকবে, যা শিরোপা লড়াইকে আরও তীব্র করবে। সিজনের বাকি দুই তৃতীয়াংশে প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্ব বাড়বে, এবং দলগুলোকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে হবে।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অনুপস্থিতি এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সাউদি প্রো লিগকে মাঠের বাইরে নতুন প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। লিগের জনপ্রিয়তা ও আন্তর্জাতিক আকর্ষণ বাড়াতে হলে ক্লাবগুলোকে খেলোয়াড়দের চাহিদা ও আর্থিক নীতির মধ্যে সুষম সমন্বয় করতে হবে। এই মুহূর্তে লিগের শিরোপা লড়াইয়ের গতি ও দর্শকদের মনোযোগ উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।



