বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বে ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চ্যানেলে একটি নির্বাচনী ভাষণ দেবেন। ইলেকশন কমিশনের নির্দেশে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হবে, যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায় এবং সকল প্রার্থীর সমান প্রচার সুযোগ প্রদান করা হয়।
ইলেকশন কমিশনের পাবলিক রিলেশনস ডিরেক্টর মোঃ রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য টেলিভিশনে সমান প্রচার পরিবেশ গড়ে তোলা অপরিহার্য। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিটিভি সকল রাজনৈতিক দলের লিখিত আবেদন গ্রহণের ক্রমানুসারে প্রচার সময়সূচি নির্ধারণ করবে।
জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন কোড অফ কন্ডাক্ট ২০২৫-এর ধারা ৬ (সার্বজনীন সমাবেশ, রেলেশন ও সমাবেশ) এর উপধারা (গ) অনুসারে, টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার সুযোগের বণ্টন আবেদনপত্রের প্রাপ্তি ক্রমের ভিত্তিতে হবে। এই বিধানটি সকল দলকে সমান সুযোগ প্রদান এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বিটিভি থেকে প্রচার সময়ের জন্য লিখিত আবেদন জমা দেয়নি, শুধুমাত্র বিএনপি তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আবেদন পাওয়া গিয়েছে। ফলে, ইলেকশন কমিশন বিটিভিকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তারেক রহমানের ভাষণ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখে সম্প্রচার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্য কোনো দলের আবেদন না থাকায় সময়সূচি নির্ধারণে কোনো বিরোধ দেখা দেয়নি।
বিটিভি এখন ভাষণের দৈর্ঘ্য এবং রেকর্ডিং সময়সূচি নির্ধারণের জন্য বিএনপি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করবে। চ্যানেলটি আবেদনপত্রের ক্রমানুসারে সময় বরাদ্দ করবে এবং প্রতিটি দলের চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় করবে, যদিও বর্তমানে অন্য কোনো দল থেকে আবেদন না পাওয়ায় এই প্রক্রিয়া সহজতর হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে, নির্বাচনের আগে প্রধান বিরোধী দলের নেতা টেলিভিশনে সরাসরি জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন, যা ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি এবং মতামত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে, ইলেকশন কমিশনের এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী প্রচারকে সমান ভিত্তিতে পরিচালনা করার তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এখনও তাদের প্রচার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পর্যায়ে থাকতে পারে। তবে, ইলেকশন কমিশনের নীতিমালা অনুসারে, যদি তারা লিখিত আবেদন জমা দেয়, তবে বিটিভি তাদেরও সমান সময় বরাদ্দ করবে। এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচার সময়ের বিতরণে কোনো বৈষম্য না হওয়ার নিশ্চয়তা দেবে।
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, এই ধরনের টেলিভিশন প্রচার অনুষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক পারস্পরিক ক্রিয়া, জনমত গঠন এবং নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইলেকশন কমিশনের নির্দেশনা এবং বিটিভির সহযোগিতা নিশ্চিত করবে যে, ভোটাররা বিভিন্ন দলের নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পাবে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।



