৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত সংবাদব্রিফিংয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সংস্কার প্রক্রিয়ার জটিলতা ও বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সকলের সমন্বয় প্রয়োজন এবং প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পরিচালিত না হলে তা কার্যকর হয় না।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি নিজে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে কাজের ধারা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং দেখেছেন যে প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত জটিলতা রয়েছে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। তবুও তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্রুত সমাধান প্রদান করার চেষ্টা করেছেন, যা তার সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতার ফল।
সংস্কার না হওয়ার মূল কারণ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, আমলাতান্ত্রিক কাঠামো একটি বাধা, তবে আইনগত দিকের ত্রুটিও সমানভাবে প্রভাব ফেলছে। তিনি অতীতে গভর্নর পদে থাকাকালীন ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে এক পরিবার থেকে দুজন বা তিনজন পরিচালক ছিলেন, হঠাৎ করে নতুন মন্ত্রী এসে আরও কয়েকজনকে যুক্ত করেন, যা তিনি ‘উল্টো দিকে যাওয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের মেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় রাখার দাবি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সূচকগুলো সন্তোষজনক এবং পরবর্তী সরকারকে কোনো বড় বাধার সম্মুখীন হতে হবে না।
বেকারত্বের বৃদ্ধি সম্পর্কে সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন, কর্মসংস্থান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ এবং তা সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে তহবিলের অভাব ছিল, যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু সহায়তা প্রদান করেছে, তবে বড় বড় কারখানার শ্রম ঘনত্ব কম হওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
‘সন্তোষজনক’ শব্দের অর্থ তিনি স্থিতিশীলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন; অর্থাৎ বর্তমান অবস্থা পরবর্তী সরকারকে অস্থিরতা ছাড়া পরিচালনা করতে সহায়তা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পূর্বের নড়বড় অবস্থার তুলনায় এখন আর্থিক পরিবেশ বেশি সুশৃঙ্খল।
ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ও পরিশোধের বিষয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি একই পরিমাণ ঋণ শোধও করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে এবং সরকারি খাতের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হয়েছে।
ঋণ নেওয়ার মূল কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পূর্বে নেওয়া ঋণের শর্তাবলী পুরোপুরি মানা হয়নি, তাই নতুন ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গতকাল সরকারের দৃশ্যমানতা ও সংস্কারের বাস্তবতা নিয়ে সমালোচনা করেছে। এ বিষয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, টিআইবির পর্যবেক্ষকরা সব দিক দেখতে পারেন না এবং তাদের মূল্যায়ন সীমিত হতে পারে।
বক্তব্যের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো প্রয়োজন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্পূর্ণভাবে অর্জন করা কঠিন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত, যাতে পরবর্তী সরকারকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপে না ফেলতে হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সংস্কার প্রক্রিয়া সহজতর হবে এবং সকল স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতা নিশ্চিত হবে।
বক্তব্যের পর প্রশ্নোত্তরে তিনি স্বীকার করেন, সংস্কার প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে আইনগত কাঠামো পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরণের সংস্কার না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধীরগতিতে চলতে থাকবে।
অবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা যদিও সন্তোষজনক, তবু কর্মসংস্থান, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে পরবর্তী সরকারকে সুদৃঢ় ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ থাকে।



