ট্রান্সফার ডেডলাইন ডে-এ কয়েকটি অপ্রত্যাশিত চুক্তি প্রকাশ পায়, যার মধ্যে উলভসের শীর্ষ স্ট্রাইকার জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনকে ক্রিস্টাল প্যালেসে বিক্রি করা অন্যতম। একই দিনে মিলান নতুন ফরোয়ার্ড নিকলাস ফুলক্রুগকে স্বাক্ষর করে, যদিও ক্লাব ইতিমধ্যে ক্রিস্টোফার এনকুন্কু এবং নিকলাস ফুলক্রুগের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। লিভারপুলও £৬০ মিলিয়ন মূল্যের একজন ডিফেন্ডারকে সাইন করে, তবে নতুন খেলোয়াড়ের আগমন গ্রীষ্মে হবে বলে জানানো হয়েছে।
উলভসের এই বিক্রয়টি ক্লাবের সর্বোচ্চ দামের চুক্তি হিসেবে বিবেচিত, যেখানে জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনের মূল্য প্রায় £৪৩ মিলিয়ন নির্ধারিত হয়। ক্রিস্টাল প্যালেস, যা বর্তমানে অবনমনের ঝুঁকিতে রয়েছে, এই ট্রান্সফারকে তাদের আক্রমণ শক্তি বাড়ানোর শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে লারসেনের এই মৌসুমে মাত্র এক গোলের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও, এই চুক্তি কেন করা হয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়।
ক্রিস্টাল প্যালেসের এই সিদ্ধান্তের পেছনে সম্ভবত জঁ-ফিলিপ মাটেটার মিলানে যাওয়ার চুক্তি ভেঙে যাওয়া একটি কারণ হতে পারে। মাটেটা, যিনি পূর্বে উলভসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তার স্থানান্তর ব্যর্থ হওয়ায় ক্লাবকে বিকল্প স্ট্রাইকারের সন্ধান করতে বাধ্য করেছে। তবু, লারসেনের উচ্চ মূল্যের চুক্তি এবং তার সীমিত স্কোরিং রেকর্ডের মধ্যে পারস্পরিক যুক্তি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
মিলান, ইতিমধ্যে আগস্টে ক্রিস্টোফার এনকুন্কুকে €৪৩ মিলিয়ন মূল্যে সাইন করার পর, নিকলাস ফুলক্রুগকে সাম্প্রতিক সময়ে যোগ করেছে। ফুলক্রুগের ডেবিউ ম্যাচে গেম-উইনার গোলের মাধ্যমে তিনি তৎক্ষণাৎ প্রভাব ফেলেছেন, আর এনকুন্কু শেষ পাঁচটি ম্যাচে চারটি গোলের সঙ্গে ফর্মে আছেন। এই দুই ফরোয়ার্ডের উপস্থিতি সত্ত্বেও, ক্লাবের অতিরিক্ত স্ট্রাইকারের চাহিদা কেন অব্যাহত রয়েছে তা প্রশ্নের মুখে।
লিভারপুলের ক্ষেত্রে, দলটি শীর্ষ চারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাত্ক্ষণিক ডিফেন্সিভ বিকল্পের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। ফলে, তারা একটি ডিফেন্ডারকে £৬০ মিলিয়ন মূল্যে সাইন করেছে, যদিও নতুন খেলোয়াড়ের যোগদান গ্রীষ্মে হবে। এই ধরণের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ক্লাবের বর্তমান রোস্টারে তাত্ক্ষণিক সুরক্ষা প্রদান করবে না, তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোভেন্ট্রি, যা সাম্প্রতিক ম্যাচে গোল রোধে সমস্যার সম্মুখীন, তাদের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা দূর করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও ডেডলাইন ডে-এ কোনো স্পষ্ট সাইনিং প্রকাশিত হয়নি, তবে ক্লাবের আক্রমণ ও রক্ষণাত্মক উভয় দিকেই উন্নতি প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।
ডেডলাইন ডে-এ অতীতের কিছু স্মরণীয় চুক্তিও উল্লেখযোগ্য, যেমন গিয়ানেলি ইম্বুলার পোর্তো থেকে স্টোক সিটিতে স্থানান্তর, পিটার ওডেনউইঙ্গি একটি পার্কিং লটে দেখা গিয়েছিল, এবং আলফ্রেডো ডি স্টেফানো জুলিয়েন ফাউবের্টের দিকে সন্দেহজনক দৃষ্টিপাত করেছিল। এই ঘটনাগুলো অতীতের ট্রান্সফার ডে-কে রোমাঞ্চকর ও নাটকীয় করে তুলত, তবে এই বছর তা কমে গেছে।
সারসংক্ষেপে, এই ডেডলাইন ডে-এ দেখা গিয়েছে যে কিছু ক্লাবের ট্রান্সফার কৌশল পূর্বের তুলনায় কম যুক্তিসঙ্গত এবং অতিরিক্ত ব্যয়বহুল। উলভসের স্ট্রাইকার বিক্রি, মিলানের অতিরিক্ত ফরোয়ার্ড সাইনিং, এবং লিভারপুলের দেরিতে আসা ডিফেন্ডার—all এইগুলো বর্তমান বাজারের অস্থিরতা ও ক্লাবের তাত্ক্ষণিক চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সংগ্রামের ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যৎ ম্যাচে এই চুক্তিগুলোর প্রভাব কী হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



