পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের নির্বাচনী পথসভা গলাচিপা উপজেলার ওয়াবদা কলোনিতে সোমবার রাত ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, যিনি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী, উপস্থিত ভোটারদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি আওয়ামী লীগের এই অঞ্চলের দায়িত্ব গ্রহণ করে গলাচিপা-দশমিনাকে অগ্রসর করার পরিকল্পনা করেছেন।
নুরুল হক নুরের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সমন্বয়। তিনি বলেন, “তারেক রহমান বিএনপির দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি আওয়ামী লীগের এই অঞ্চলের আপনারা যে দায়িত্বে আছেন তা নেব। আপনারা আমার সঙ্গে থাকুন, আমরা একসাথে গলাচিপা-দশমিনাকে এগিয়ে নেব।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দুই দলের মধ্যে সহযোগিতার ইঙ্গিত দেন এবং স্থানীয় স্বার্থে সকল দলমতের মানুষের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভায় নুরুল হক নুর স্পষ্ট করে বলেন, গলাচিপা-দশমিনায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন ও জামায়েতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি সক্রিয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এখানে কোনো ভেদাভেদ হবে না, সকল দলের মানুষকে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করে কাজ করবো।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক সমন্বয় ও ঐক্যের বার্তা দেন, যা স্থানীয় নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হতে পারে।
নুরুল হক নুর অতিরিক্তভাবে আশ্বাস দেন যে এই অঞ্চলে কোনো গ্রেপ্তার, হয়রানি বা আতঙ্কের ঘটনা ঘটবে না। তিনি ভোটারদেরকে নিশ্চিত করেন যে, তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই প্রতিশ্রুতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে।
সভায় গণঅধিকার পরিষদের গলাচিপা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গলাচিপা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব মো. জাকির হোসেন মুন্সি এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আবু নাঈমসহ অন্যান্য সদস্যরাও অংশ নেন। তাদের উপস্থিতি সভার আনুষ্ঠানিকতা ও সংগঠনগত দিককে শক্তিশালী করেছে।
নুরুল হক নুরের এই ঘোষণার পেছনে রাজনৈতিক কৌশলগত দিক রয়েছে। গলাচিপা-দশমিনায় তিনি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগের ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় ভোটারদের কাছ থেকে বিস্তৃত সমর্থন অর্জনের লক্ষ্য রাখছেন। এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতে জোট গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গলাচিপা-দশমিনার ভোটারগণ বিভিন্ন দলকে সমর্থন করে আসছেন, তাই নুরের এই সমন্বয়মূলক ঘোষণা ভোটারদের মধ্যে সমতা ও ন্যায়বোধের অনুভূতি জাগাতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি যে দলীয় সীমানা অতিক্রম করছেন, তা কিছু সমর্থকের মধ্যে প্রশ্ন তুলতে পারে।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় শাখা এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। তারা নুরুল হক নুরের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং সকল দলের মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। এই পারস্পরিক সমর্থন গলাচিপা-দশমিনার রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও স্থিতিশীল করতে পারে।
নুরুল হক নুরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট। তিনি গলাচিপা-দশমিনার উন্নয়নমূলক প্রকল্প, অবকাঠামো কাজ এবং সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগে সকল দলের সমর্থন নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় যুবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন।
এই সভা গলাচিপা-দশমিনার রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নুরের দ্বিপাক্ষিক সমন্বয়মূলক পদক্ষেপের ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ভোটের প্রবণতা কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে স্পষ্ট যে, তিনি সকল দলের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ রাখতে চান।
পরবর্তী ধাপে নুরুল হক নুরের দলীয় কর্মসূচি ও প্রচারাভিযান চালু হবে। তিনি স্থানীয় সভা, দরবারি ও গ্রামীন মিটিংয়ের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেন। একই সঙ্গে তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা আয়োজনের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন, যাতে গলাচিপা-দশমিনার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য একতাবদ্ধ প্রচেষ্টা করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, গলাচিপা-দশমিনায় নুরুল হক নুরের এই ঘোষণায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন সমন্বয় ও সহযোগিতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তিনি সকল দলমতের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে, কোনো বৈষম্য না করে, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি গলাচিপা-দশমিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



