মঙ্গলবার, ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন স্তরে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি ও যুবদলের মোট ৩৮ জন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। উভয় সংগঠন পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপের কারণ ও তালিকা প্রকাশ করেছে।
বিএনপি থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের ভিত্তিতে ১৫ জন নেতা-কর্মীকে পার্টি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ আলী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ভি পি সোলেমান, মোজাহিদুল ইসলাম, মো. হুমায়ুন কবির, তেজগাঁও থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন, আবু জাফর পাটোয়ারী, তারিকুল ইসলাম, বাহারুল, এবং মো. হুমায়ুন কবির।
এছাড়াও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি মো. হানিফ, হাতিরঝিল থানা আহ্বায়ক নাজমুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক আশ্রাফ হোসেন চৌধুরী, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, শেরেবাংলা নগর থানা যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন ফারুক রাশেদ, সদস্য সানাউল হক এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি নূরুল হককেও বহিষ্কৃত করা হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কাজের অভিযোগে ২৩ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তেজগাঁও থানা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল মোল্লা ও যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন বাবু, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক শাহ আলম, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শাহীন শিকদার ও সাবেক সদস্যসচিব মনির হোসেন সুমন, শেরেবাংলা নগর থানার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান অপু ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, এবং ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সুমনকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে।
তালিকায় আরও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিপন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক ফেরদৌস আহমেদ সায়মন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাসেল ব্যাপারী, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কাজী সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াহিদ, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম আকাশ অন্তর্ভুক্ত।
দুই সংগঠনই উল্লেখ করেছে, এই পদক্ষেপগুলো পার্টির শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে এমন ধরনের লঙ্ঘন রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে।
বিএনপি ও যুবদলের এই ব্যাপক বহিষ্কারের ফলে উত্তরের পার্টি কাঠামোতে পুনর্গঠন দেখা দিতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বহিষ্কৃত নেতাদের পরিবর্তে নতুন কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে, যা উভয় সংগঠনের গঠনগত শক্তি ও সমন্বয়কে পুনরায় সাজাতে সহায়তা করবে।



