রাজশাহী-৩ (পাবা‑মোহনপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে স্বাধীন প্রার্থী হাবিবা বেগম, দুই বছর বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে, স্বামী মাসুদ রানা’র সঙ্গে ব্যাটারি চালিত অটো‑রিকশা ও পায়ে হেঁটে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তুলছেন। সোমবার বিকেলে তিনি মোহনপুর উপজেলার সিংহোমারা গ্রাম থেকে প্রচার শুরু করেন, যেখানে কোনো পার্টি মেশিনারি, ক্যাম্পেইন কর্মী বা কনভয় নেই।
প্রচারের পদ্ধতি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র; হাবিবা অটো‑রিকশা থেকে নামিয়ে, হাতে পাতা‑পত্র নিয়ে গ্রাম‑বাজারে ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। স্বামী মাসুদ রানা ক্যামেরা ও মোবাইল দিয়ে পুরো সফর রেকর্ড করেন, ফলে প্রচার কার্যক্রমের দৃশ্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ধরনের ঘনিষ্ঠ ও গৃহস্থালী প্রচার পদ্ধতি সাধারণ কনভয়‑ভিত্তিক ক্যাম্পেইনের থেকে ভিন্ন, যা ভোটারদের কাছে মানবিক দৃষ্টিকোণ তুলে ধরে।
সকাল ৩টায় নওহাটা থেকে যাত্রা শুরু করে হাবিবা দুযোগ ও দরুশা গ্রাম অতিক্রম করে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন। সন্ধ্যা ৯টায় দামকুরা হাটে পৌঁছে দিন শেষ করেন, যেখানে তিনি আবার পাতা‑পত্র বিতরণ করে ভোটারদের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যান। পুরো যাত্রা ব্যাটারি চালিত অটো‑রিকশায় পরিবার একসঙ্গে করে, যা পরিবেশবান্ধব ও ব্যয়সাশ্রয়ী হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
দরুশা বাজারে হাবিবা একটি চা দোকানে প্রবেশ করে, হাতে পাতা‑পত্র নিয়ে ভোটারদের আহ্বান জানায়। সেখানে উপস্থিত মিনারুল ইসলাম, হাবিবার উপস্থিতি দেখে ভোটের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং সরাসরি জানিয়ে দেন, “আপা, আপনার উপস্থিতি দেখে আমি ভোট দেব, আর আপনার পক্ষে ভোট দেব।” তার এই মন্তব্য হাবিবার প্রচারকে স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী করে।
বাজারের আরেকজন বাসিন্দা সাজ্জাদ আলি, হাবিবার চা কিনে দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা তার প্রচারকে আরও মানবিক ও সহানুভূতিপূর্ণ করে তুলেছে। একই সময়ে নিকটস্থ একটি ফার্মেসিতে শেফালি খাতুন হাবিবার পাতা‑পত্র হাতে পেয়ে বিস্মিত হন; তিনি জানিয়ে দেন, “আমরা জানতাম না আপনি এখনও প্রার্থী, শুনেছি আপনার নামানুষ্ঠান বাতিল হয়েছে।” এই মন্তব্য হাবিবার নির্বাচনী অবস্থার প্রতি জনসাধারণের অজানা ধারণা প্রকাশ করে।
হাবিবার নামানুষ্ঠান বাতিলের পটভূমি জানাতে, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর রিটার্নিং অফিসার তার প্রার্থিতা রদ করেন। হাবিবা তাৎক্ষণিক আপিলের পরেও প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হন, ফলে তিনি উচ্চ আদালতে হেঁটেছিলেন। ২৭ জানুয়ারি রাতের দিকে হাই কোর্টের রায়ে তার প্রার্থিতা পুনরায় স্বীকৃত হয় এবং তাকে ফুটবল প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। এই আইনি জয় তার নির্বাচনী যাত্রাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
বর্তমানে হাবিবা রাজশাহী জেলায় একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা নারী প্রতিনিধিত্বের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তার অনন্য প্রচার পদ্ধতি, শিশুর সঙ্গে উপস্থিতি এবং স্বামীসহ পরিবারের সমর্থন তাকে ভোটারদের কাছে আলাদা করে তুলেছে।
আসন্ন নির্বাচনে হাবিবার ক্যাম্পেইন অব্যাহত থাকবে; তিনি গ্রাম‑বাজারে পাতা‑পত্র বিতরণ, সরাসরি সাক্ষাৎ এবং সামাজিক মাধ্যমে রেকর্ড করা ভিডিও দিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখবেন। তার উপস্থিতি ও প্রচার কৌশল স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত নারী ভোটার ও তরুণদের মধ্যে সমর্থন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রচারাভিযানের মাধ্যমে হাবিবা বেগমের লক্ষ্য কেবল ভোট সংগ্রহ নয়, বরং রাজশাহী-৩ অঞ্চলে নারী প্রার্থীর উপস্থিতি ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক স্বরূপকে দৃঢ় করা। তার ক্যাম্পেইনের অগ্রগতি ও ফলাফল পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী ফলাফলে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



