জাতীয় নাগরিক দল কুমিল্লা‑৪ (দেবিদ্বার) আসনের প্রার্থী ও দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, আজ মঙ্গলবার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঘটিত ব্যানার পোড়ানো ও নেতাকর্মীদের ওপর হিংসা প্রদর্শনের ঘটনাকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “ভয় দেখিয়ে বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনকে থামানো সম্ভব নয়।”
বৈঠকে উপস্থিত উপস্থিতি মূলত জাতীয় নাগরিক দল ও জামায়াত-এ-ইসলামি শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কর্মী ছিলেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াত-এ-ইসলামির সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, উপজেলা জামায়াত-এ-ইসলামির সভাপতি অধ্যাপক শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা সমাবেশে অংশ নেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “জনগণের সঙ্গে যে গণসংযোগ ও জনসমর্থনের স্রোত তৈরি হয়েছে, তা ব্যানারে আগুন লাগিয়ে বা পোস্টার ছিঁড়ে বন্ধ করা যাবে না। কর্মীদের ভয় দেখিয়ে বা হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যক্রম দমিয়ে রাখার চেষ্টা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোনো ধরণের হিংসা বা ভয় দেখানোর মাধ্যমে ভোটারদের স্বেচ্ছা সমর্থনকে বাধা দেওয়া যায় না এবং এমন প্রচেষ্টা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির বিরোধী।
বৈঠকের পরবর্তী অংশে তিনি পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলার পেছনে থাকা গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেন। “যারা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে, তাদের কর্মকাণ্ডের বিচার একদিন হবেই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষ কখনো একা নয়,” তিনি বলেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি হিংসা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা ইঙ্গিত করেন।
উঠান বৈঠকে উপস্থিত সকলকে তিনি ভোটাধিকার ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সকল ধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত থাকুন।” এই আহ্বানটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়।
প্রতিবাদী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের ফলে নির্বাচনী প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে, জাতীয় নাগরিক দল ও জামায়াত-এ-ইসলামি উভয়ই এই ধরনের হিংসা বিরোধে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় দলের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা ঘটলে নির্বাচনী পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। তবে হাসনাত আবদুল্লাহর এই স্পষ্ট অবস্থান ও ভোটারদের স্বেচ্ছা সমর্থন রক্ষার আহ্বান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
অবশেষে, বৈঠকের শেষে উপস্থিত সকল নেতাকর্মী ও ভোটারকে একত্রে ভোটের অধিকার ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বৈঠক সমাপ্ত হয়। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় হিংসা ও ভয় দেখানোর কোনো ঘটনা না ঘটার জন্য স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



