লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও মারইয়াম প্রেসের মালিক সোহেল রানা, ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকালে পুলিশ ৬টি ভোটের সিল, একটি মোবাইল ফোন এবং একটি কম্পিউটার জব্দ করেছে।
অভিযানটি গোপন সূত্রের ভিত্তিতে করা হয়। সদর থানা‑পুলিশের দল মারইয়াম প্রেসে প্রবেশ করে, দোকান থেকে ভোটে ব্যবহৃত ছয়টি সিল উদ্ধার করে। সিলগুলো অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত সোহেল রানা, প্রেসের মালিকানা ও ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। তিনি টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ে পরিচিত। গ্রেফতারকালে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারও তদন্তের জন্য নেওয়া হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে লেকশমীপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মাহমুদ নাহিদ现场ে উপস্থিত হন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের সিল তৈরি ও বিক্রয় আইনত নিষিদ্ধ এবং এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোহেল রানা গ্রেফতার পর জানিয়েছেন, তিনি অর্ডার পেয়ে সিলগুলো তৈরি করেছেন, তবে অর্ডারকারী ব্যক্তি বা সংস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। তার এই বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্তে অর্ডারদাতা চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ উল্লেখ করেন, সিল তৈরির অপরাধের জন্য সোহেল রানা বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় অভিযোগ দায়ের করা হবে। তিনি আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য যথাযথ সময়সীমা নির্ধারণের কথা জানান।
অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, তবে তিনি এই বিষয়ে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য করেননি। তিনি জানান, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত সিলগুলো ভোটের ফলাফল গোপনভাবে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি হতে পারে। এ ধরনের সিলের ব্যবহার নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ন করে, তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি কঠোরভাবে মোকাবিলা করছে।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে যে, সংশ্লিষ্ট আদালতে সোহেল রানা বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপনের পর মামলাটি শোনার জন্য নির্ধারিত হবে। আদালত তার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ, জব্দকৃত সিল, মোবাইল ও কম্পিউটারসহ অন্যান্য প্রমাণাদি বিবেচনা করবে।
আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সোহেল রানা যদি দোষী প্রমাণিত হন, তবে ভোটের সিল তৈরির জন্য নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। এছাড়া, জব্দকৃত ডিভাইসগুলোতে সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অপরাধের সম্ভাবনা থাকলে তা অনুসন্ধান করা হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভোটের সিলের অবৈধ উৎপাদন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছে। তারা সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, লক্ষ্মীপুরে ভোটের সিলসহ ব্যবসায়ী সোহেল রানা গ্রেফতার এবং জব্দকৃত সামগ্রী নিয়ে চলমান তদন্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আদালতে মামলার ফলাফল নির্বাচন সংক্রান্ত আইনগত কাঠামোর শক্তি পরীক্ষা করবে।



