21 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া প্রতিবেদন: সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান স্থবির

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া প্রতিবেদন: সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান স্থবির

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েটে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তুত করা একটি খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত দুই দশকে স্কুলে ভর্তি সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষার মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেনি।

এই প্রতিবেদনটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার সংস্কারের লক্ষ্যে তৈরি প্রথম খণ্ডের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। মোট দুই ধাপে কাজটি সম্পন্ন হবে; প্রথম খণ্ডে শিক্ষার সংকটের মূল কারণগুলো বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, আর দ্বিতীয় খণ্ডে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম খণ্ডে বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতির মূল উৎসগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে দেখা যায় যে, যদিও ভর্তি সংখ্যা বাড়ছে, স্কুলের অবকাঠামো সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং সরকারি পরীক্ষার উত্তীর্ণের হারও উন্নতি করছে, তবু অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক দক্ষতা—যেমন সাবলীলভাবে পাঠ করা, মৌলিক গাণিতিক ধারণা আয়ত্ত করা, এবং ধারণা ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করা—বিনা যথাযথভাবে অর্জন করে অগ্রসর হচ্ছে।

দ্বিতীয় খণ্ডে এই ঘাটতি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। এতে শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের পুনর্গঠন এবং শিক্ষার গুণগত মান পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন সূচক প্রবর্তনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রতিবেদনটি উপস্থাপনকারী অ্যানান্তা নিলেম, টাসমানিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, উল্লেখ করেন যে, ভর্তি বৃদ্ধি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের মধ্যে একটি স্থায়ী ফাঁক রয়ে গেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শংসাপত্র পেয়ে যায়, কিন্তু তাদের মধ্যে সত্যিকারের বোঝাপড়া ও আত্মবিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট।

এক্সিকিউটিভ সামারিতে বলা হয়েছে যে, শিক্ষার্থীরা যদিও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এবং শংসাপত্র পায়, তবু তারা যথাযথভাবে বিষয়বস্তু বুঝতে পারে না। স্বাধীন গবেষণা ও গৃহস্থালী সমীক্ষা ধারাবাহিকভাবে গাণিতিক ও পাঠযোগ্যতা ভিত্তিক কাজগুলোতে শিক্ষার ফলাফল দুর্বল দেখিয়েছে। বিশেষ করে গাণিতিক ধারণা ও পাঠের বোঝাপড়া ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার নিচে রয়েছে।

প্রতিবেদনটি শিক্ষাব্যবস্থার এমন একটি প্রবণতা তুলে ধরেছে যেখানে সহজে পরিমাপযোগ্য এবং রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় সূচক—যেমন ভর্তি সংখ্যা, নতুন ভবন নির্মাণ এবং উত্তীর্ণের হার—কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের অগ্রাধিকার শিক্ষার গুণগত মানকে উপেক্ষা করে, ফলে দুর্বল শিক্ষার অবস্থা আরও গভীর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর সি.আর. অবর এই উদ্যোগের গুরুত্ব কেবল নথিতে নয়, বরং এর প্রস্তুতির প্রক্রিয়াতেও দেখেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাঠ পরিদর্শন ও জেলা পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সংগ্রহিত তথ্য ও মতামতগুলো প্রতিবেদনকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বাস্তবিক সমস্যার সমাধানে ভিত্তি সরবরাহ করেছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার এই বিশ্লেষণ থেকে পাঠক ও অভিভাবকদের জন্য একটি ব্যবহারিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়: কীভাবে আমরা পরীক্ষার ফলাফলের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সত্যিকারের জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পারি? বাড়িতে নিয়মিত পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা, গাণিতিক সমস্যার সমাধানে সহায়তা করা এবং শিক্ষকের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনায় অংশ নেওয়া কিছু কার্যকর উপায় হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments