আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রোটারডামের (IFFR) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ‘A Fading Man’ (জার্মান শিরোনাম Der verlorene Mann) নামের নতুন জার্মান ফিচার ফিল্মের ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। ছবিটি প্রেম, স্মৃতি হারানো এবং পারিবারিক জটিলতার মিশ্রণ তুলে ধরে, যেখানে এক পুরনো বিবাহবিচ্ছেদের পর এক দশক পরে প্রাক্তন স্বামী হঠাৎ ফিরে আসে। চলচ্চিত্রটি রোমান্টিক ত্রিকোণকে কেন্দ্র করে, তবে ডিমেনশিয়া রোগের সামাজিক প্রভাবকেও গভীরভাবে অনুসন্ধান করে।
গল্পের মূল চরিত্র হ্যান্নে, যাকে ড্যাগমার মানজেল অভিনয় করেছেন, তিনি বর্তমান সঙ্গী বার্ন্ডের (অগাস্ট জির্নার) সঙ্গে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন। হ্যান্নের অতীতের স্বামী কুর্ট (অজানা অভিনেতা) হঠাৎ বাড়িতে প্রবেশ করে, কারণ তিনি ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে বিয়ের স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছেন। হ্যান্নে ও বার্ন্ডের স্বাভাবিক রুটিনে এই অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি এক নতুন জটিলতা যোগ করে।
কুর্টের স্মৃতির অশান্তি এবং হ্যান্নের পুরনো অনুভূতির পুনর্জাগরণ একসাথে গল্পের কেন্দ্রবিন্দু গঠন করে। ত্রয়ীটি একসাথে বসবাসের চেষ্টা করে, তবে কুর্টকে পুনরায় তার যত্নশালায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়। কুর্টের কন্যা সঙ্গে যোগাযোগের সমস্যাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে, ফলে তিনজনকে এক অস্বস্তিকর সমঝোতার মধ্যে বসতে হয়।
চিত্রনাট্যের বিবরণে বলা হয়েছে, হ্যান্নে স্বীকার করেন যে তিনি দুজন পুরুষের প্রতি এখনও অনুভূতি রাখেন। কুর্ট ও বার্ন্ড উভয়ই হ্যান্নের এই স্বীকারোক্তিকে সম্মান করে, এবং নিজেদের সম্পর্কের নতুন দিকগুলো অন্বেষণ করতে চান। সময়ের প্রবাহে তারা নিজেদেরকে জীবনের বসন্তের মতো অনুভব করতে শুরু করে, যদিও বয়সের শীতলতা তাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে।
‘A Fading Man’ চলচ্চিত্রের উৎপাদন দায়িত্বে রয়েছেন ফিলিপ মারন ও ত্রিস্টান বেহরে, যারা Maverick Film থেকে কাজ করছেন, এবং লুইস মেরকি। রেহনার্টের পরিচালনায় এই চলচ্চিত্রটি তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাজ, যেখানে তিনি টুন্ডে সাউটিয়েরের সঙ্গে গল্পের রচনা করেছেন এবং উলরিকে টর্টোরার সঙ্গে সম্পাদনা ভাগাভাগি করেছেন।
প্রযোজনা প্রক্রিয়ায় জার্মান ব্রডকাস্টিং (BR) এবং ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল ARTE-এর সঙ্গে যৌথ সহযোগিতা করা হয়েছে। মেরকি ও রেহনার্ট ফিল্ম, পাশাপাশি CinePostproduction এবং Metz-Neun Synchron নামের পোস্ট-প্রোডাকশন সংস্থাগুলিও প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। এই বহুমুখী সহযোগিতা ছবির গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিক্রয় সংস্থা Bendita Film Sales ছবির আন্তর্জাতিক বিক্রয় ও বিতরণ পরিচালনা করছে। তারা বিভিন্ন চলচ্চিত্র মেলা ও বাজারে ‘A Fading Man’কে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো যায়।
রেহনার্ট চলচ্চিত্রটি মূলত একটি প্রেমের গল্প হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, তবে ডিমেনশিয়া রোগের বাস্তবতা ও বৃদ্ধ সমাজের চ্যালেঞ্জগুলোকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যত্নের প্রয়োজনীয়তা ও সেবার ঘাটতি সমাজের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রটি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
চিত্রনাট্যের গভীরতা ও মানবিক দিকের পাশাপাশি রেহনার্ট তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যও প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আধুনিক তরুণরা পরিবারিক দায়িত্ব, বয়সজনিত রোগ এবং সম্পর্কের জটিলতা সম্পর্কে আগ্রহী, ফলে এই চলচ্চিত্র তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
‘A Fading Man’ এর ট্রেলার ইতিমধ্যে রোটারডাম উৎসবে অংশগ্রহণকারী চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দর্শকরা ছবির ভিজ্যুয়াল স্টাইল, সঙ্গীত এবং চরিত্রগুলোর আন্তঃক্রিয়ার প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ট্রেলারটি চলচ্চিত্রের মূল থিমগুলোকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করে, যা ভবিষ্যতে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রদর্শনের জন্য প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
চলচ্চিত্রটি ২০২৬ সালের শীতকালে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুক্তি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তবে সুনির্দিষ্ট মুক্তির তারিখ এখনো প্রকাশিত হয়নি। রেহনার্ট ও প্রযোজক দল ছবির পোস্টার, প্রচারমূলক উপকরণ এবং সঙ্গীতের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে দর্শকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরি করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, ‘A Fading Man’ প্রেম, স্মৃতি এবং বয়সজনিত চ্যালেঞ্জের সংমিশ্রণকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে, যা দর্শকদের হৃদয়স্পর্শী ও চিন্তাশীল করে তুলবে। চলচ্চিত্রের ট্রেলার ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, এবং এর পরবর্তী ধাপগুলোতে আরও বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।



