যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন যুক্তরাষ্ট্র দূত পিটার ম্যান্ডেলসন, লর্ড হিসেবে হাউস অব লর্ডস থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা জানিয়েছেন। স্পিকার মাইকেল ফোরসাইথ মঙ্গলবার সংসদে জানিয়েছেন যে ম্যান্ডেলসন ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে হাউস থেকে অব্যাহতি নেবেন। এই সিদ্ধান্তটি জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের ওপর বাড়তে থাকা রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এসেছে।
ফোরসাইথ স্পিকার উল্লেখ করেছেন যে পার্লামেন্টের ক্লার্ক আজ ম্যান্ডেলসনের কাছ থেকে তার অবসর নোটিশ পেয়েছেন। তিনি যোগ করেন, ম্যান্ডেলসন তার ইচ্ছা লিখিতভাবে জানিয়ে হাউস অব লর্ডসের রেকর্ডে তার পদত্যাগের তারিখ উল্লেখ করেছেন।
ম্যান্ডেলসন, যিনি একসময় লেবার পার্টির উচ্চপদস্থ সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, ২০২১ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সংযোগের অভিযোগে দূত পদ থেকে বরখাস্ত হন। সেই সময় থেকে তার নাম বিভিন্ন তদন্ত ও মিডিয়া রিপোর্টে উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও এপস্টেইন স্ক্যান্ডাল নিয়ে সরকারী পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে সরকার ম্যান্ডেলসনের পিয়ারেজ বাতিলের জন্য আইন প্রণয়ন করছে এবং কোনো পুলিশী তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
স্টারমার এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী পার্টির নেতারা সরকারকে এপস্টেইন সংক্রান্ত গোপন তথ্য লিকের অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তারা যুক্তি দেন, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তবে ম্যান্ডেলসনের মতো উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদদের উপর কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা উচিত।
ম্যান্ডেলসন নিজে থেকে কোনো মন্তব্য প্রকাশ না করলেও, তার অবসর ঘোষণার ফলে হাউস অব লর্ডসে তার উপস্থিতি শেষ হবে। তিনি ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আর কোনো লর্ডের অধিকার ব্যবহার করতে পারবেন না এবং তার পিয়ারেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই পদত্যাগের ফলে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে, কারণ ম্যান্ডেলসন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং তার নেটওয়ার্ক পার্টির নীতি গঠনে প্রভাবশালী ছিলেন। তার চলে যাওয়া নতুন নেতৃত্বের উত্থানকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
অন্যদিকে, হাউস অব লর্ডসের অন্যান্য সদস্যরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। কিছু সদস্য গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলী শক্তিশালী করার দাবি তুলেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আইন প্রণয়ন পরিকল্পনা এখন সংসদে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। যদি পিয়ারেজ বাতিলের জন্য বিশেষ আইন পাশ হয়, তবে ম্যান্ডেলসনের মতো অন্য লর্ডদেরও একই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
পুলিশী তদন্তের ব্যাপারে সরকারী সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক নজরদারিও বাড়িয়ে দিয়েছে। এপস্টেইন সংক্রান্ত তথ্য লিকের অভিযোগে যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নীতির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যান্ডেলসনের অবসর ঘোষণার পর, মিডিয়া ও বিশ্লেষকরা এই ঘটনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তির পদত্যাগ সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দিকে ধাবিত করতে পারে, তবে একই সঙ্গে পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজনও বাড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ম্যান্ডেলসনের হাউস অব লর্ডস থেকে পদত্যাগ এবং সরকারী আইন প্রণয়ন উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড় এনে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই প্রক্রিয়া এগোবে এবং কোন অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



