21 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাগার্মেন্টস শিল্পের সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য সরকারে আর্থিক সহায়তা চাইল

গার্মেন্টস শিল্পের সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য সরকারে আর্থিক সহায়তা চাইল

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য আজ সরকারকে নীতিগত ও জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। সংস্থার প্রতিনিধিদল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে। শিল্পের বর্তমান সংকট ও রপ্তানি হ্রাসের প্রেক্ষাপটে তহবিলের ত্বরিত মুক্তি চাওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে মো. রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান ও পরিচালক ফয়সাল সামাদ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদল উল্লেখ করেছে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশীয় চ্যালেঞ্জের ফলে গার্মেন্টস সেক্টর কঠিন সময় পার করছে।

প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে গার্মেন্টস রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২.৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে একই সময়ের তুলনায় গড়ে ৯.৪৩ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে গেছে।

উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি, পণ্যের দাম ও অর্ডার হ্রাসের ফলে গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং আরও বহু কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান শিল্পের কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সরকারী ছুটি এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কর্মদিবসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বিশেষত, পরবর্তী ষাট দিনের মধ্যে কারখানাগুলো মাত্র ৩৫ দিন কার্যকরী থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

মার্চ মাসে নিয়মিত বেতন পাশাপাশি বোনাস ও অগ্রিম বেতন মিলিয়ে কর্মীদেরকে প্রায় দ্বিগুণ মজুরি প্রদান করতে হবে। এই অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) গুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

এসএমই গুলো যদি সময়মতো ব্যাংকিং সহায়তা না পায়, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস পরিশোধ করা এবং উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে শিল্পে অস্থিরতা বাড়তে পারে, যা সমগ্র অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

বৈঠকে প্রতিনিধিদল লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুরোধ করেছে যে বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন বকেয়া নগদ সহায়তার আবেদনগুলো দ্রুত অনুমোদন করে তহবিল মুক্তি করা হোক। ত্বরিত নগদ প্রবাহ কারখানার ক্যাশ-ফ্লোতে স্বস্তি এনে দেবে।

অতিরিক্তভাবে, ঈদ ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা নিশ্চিত করার জন্য ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে প্রদান করার প্রস্তাবও করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা শিল্পের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।

সংস্থার মতে, সময়মতো আর্থিক সহায়তা না পেলে গার্মেন্টস সেক্টরের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং রপ্তানি হ্রাসের প্রবণতা আরও তীব্র হবে। তাই নীতিনির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শিল্পের স্থিতিশীলতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

গার্মেন্টস শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি অংশ সরবরাহ করে; রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক হ্রাস সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমাবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াবে। তদুপরি, কারখানা বন্ধের ফলে লক্ষাধিক শ্রমিকের কাজের সুযোগ হ্রাস পাবে, যা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য নীতিগত দিক থেকে রপ্তানি প্রণোদনা, ত্বরিত নগদ সহায়তা এবং স্বল্প সুদে ঋণসহ সমন্বিত আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানিয়েছে। এই চাহিদা পূরণ হলে শিল্পের উৎপাদন চালু রাখা, কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করা এবং রপ্তানি পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে সংস্থা আশাবাদী।

বাজার পর্যবেক্ষকরা ইঙ্গিত করছেন যে ধারাবাহিক আর্থিক ঘাটতি গ্লোবাল ক্রেতাদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে, ফলে অর্ডার হ্রাস পাবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত সহায়তা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments