বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের ২০২৬ সালের জেনারেশন Kplus প্রোগ্রামটি নতুন ডকুমেন্টারি ‘দ্য ফ্যাবুলাস টাইম মেশিন’ দিয়ে উদ্বোধন করেছে। এলিজা ক্যাপাই পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ব্রাজিলের শুষ্ক অন্তর্গত অঞ্চলের কিশোরী মেয়েদের জীবনের পথে আলোকপাত করে।
ফিল্মটি ব্রাজিলের সের্তাও নামে পরিচিত শুষ্ক ভূমিতে শুট করা হয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা প্রায়ই উচ্চ এবং পানির সরবরাহ সীমিত। এই কঠিন পরিবেশের মাঝেও মেয়েরা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে রঙিন করে তোলার চেষ্টা করে।
মেয়েরা মাটির মেঝে, ট্যাপ পানির অভাব এবং ধূলিময় বাড়িতে বসবাস করে, তবু তারা খাবার, শিক্ষা এবং স্বপ্নের সুযোগকে নিজের অধিকার বলে দাবি করে। তাদের মা-দের কঠিন অতীতের ছায়া এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের মধ্যে তারা একসাথে চলতে থাকে।
চলচ্চিত্রে দেখা যায়, মেয়েরা কাল্পনিক সময়যন্ত্র তৈরি করে অতীতের দিকে ফিরে নিজেদের বাস্তবতা প্রশ্ন করে। এই খেলাধুলা তাদেরকে পুরোনো ঐতিহ্য ও আধুনিক আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সেতু গড়তে সাহায্য করে।
খেলায় তারা লিঙ্গভেদ, মদ্যপান, ধর্মীয় রীতি ইত্যাদি জটিল বিষয়গুলোকে হালকা ভাবে তুলে ধরে। মেয়েরা এই বিষয়গুলো নিয়ে হাস্যরসের মাধ্যমে আলোচনা করে, যা তাদের সামাজিক সচেতনতা বাড়ায়।
ভয়, হতাশা এবং মৃত্যুর মতো গম্ভীর বিষয়ও মেয়েরা রসিকতার ছলে প্রকাশ করে। এই পদ্ধতি তাদেরকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে সাহস যোগায়।
কিশোরী বয়সের পরিবর্তনের ভয়কে অতিক্রম করতে তারা ভবিষ্যতে সময় ভ্রমণ করার কল্পনা করে, যেখানে তারা স্বাধীন, সফল নারীরূপে নিজেকে কল্পনা করে। এই স্বপ্নগুলো তাদেরকে আত্মবিশ্বাস দেয়।
চলচ্চিত্রটি ব্রাজিলের আমানা সিনে প্রযোজনা করেছে, এবং মারিয়ানা গ্যানেসকা এর তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে। স্থানীয় টিমের প্রচেষ্টা এই প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।
বার্লিনে এই ডকুমেন্টারিটি একমাত্র জেনারেশন শিরোনাম এবং ২০২৬ সালের বার্লিনাল ডকুমেন্টারি পুরস্কারের জন্য মনোনীত। এছাড়া এটি বার্লিন উৎসবে অংশগ্রহণকারী একমাত্র ব্রাজিলীয় ডকুমেন্টারি।
থিয়েটার হাবের মাধ্যমে উৎসবের আগে একটি এক্সক্লুসিভ ক্লিপ প্রকাশ করা হয়েছে, যা ১২ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলমান উৎসবের আগ্রহ বাড়াবে। এই ক্লিপটি দর্শকদের চলচ্চিত্রের মূল থিমের এক ঝলক দেয়।
বিশ্ব বিক্রয় কাজটি স্প্লিট স্ক্রিন পরিচালনা করছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে চলচ্চিত্রের প্রবেশদ্বার খুলে দেবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি দর্শক ব্রাজিলের গ্রামীণ জীবনের গল্পে পৌঁছাতে পারবে।
বাঙালি দর্শকদের জন্য এই ডকুমেন্টারিটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, কারণ এটি গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা তরুণ মেয়েদের স্বপ্ন ও সংগ্রামকে তুলে ধরে, যা আমাদের own গ্রাম্য জীবনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
যদি আপনি মানবিক গল্পে আগ্রহী হন এবং সংস্কৃতির পারস্পরিক সংযোগ দেখতে চান, তবে বার্লিন উৎসবে এই চলচ্চিত্রটি দেখার



